
শেষ আপডেট: 8 March 2020 06:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: শান্তিপুরের পিয়াসা মহলদারের বয়স এখন ২৩ বছর। কিন্তু শরীরের উচ্চতা একেবারে শিশুর মতোই, মাত্র তিন ফুট। চলার শক্তি নেই। তবুও মাথা উঁচু করে আকাশ ছুঁতে চান তিনি। এই জেদেই হাজার সমস্যা দূরে ঠেলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় পিয়াসা। মায়ের কোলে চড়েই অবশ্য তাঁকে যেতে হয় সর্বত্র।
বিছানায় শুয়ে শুয়েই অহরহ তিনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য পরিশ্রমও করেন। এমনকী অন্যকে সাহায্যও করতে চান তিনি।
শান্তিপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পটেশ্বরী স্ট্রিট এলাকায় থাকেন পুলিশকর্মী উত্তম মহলদার। তাঁর দুই ছেলেমেয়ের মধ্য বড় পিয়াসা। জন্ম থেকেই পিয়াসার দু’টি পা ও দু’টি হাত অস্বাভাবিক রকম ছোট। একটু বড় হওয়ার পরেই তাঁর এই অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন পরিবারের লোকজন। তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ২৩ বছরেও অবশ্য তাঁর সমস্যা মেটেনি। শিশুর মতো কোলে-পিঠেই চলাফেরা করতে হয় তাঁকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এটি জিনঘটিত সমস্যা। সেই কারণেই হাত-পায়ের বৃদ্ধি ঘটেনি পিয়াসার। বিছানা থেকে একা ওঠার সামর্থও হয়নি। প্রতিদিনই বিছানায় শুয়ে লেখাপড়া করেন, দৈনন্দিন প্রায় সবকিছুই বিছানায় শুয়ে করতে হয় তাঁকে। এব্যাপারে তাঁকে কখনও সাহায্য করেন তাঁর মা, কখনও বাবা।
স্কুলে বা কলেজে যেতে না পারলেও পড়াশোনায় বরাবরই ভাল পিয়াসা। স্কুল-কলেজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ও
তাঁকে বাড়িতে বসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে এমএ করছেন তিনি। প্রথমবর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। সাজগোজ করেন। খুব ইচ্ছা মায়ের মতো রান্না করবেন।
নিজে খুন্তি নাড়তে না পারলে কি রাঁধুনি হওয়া যায় না? যায় বৈকি। বিছানায় বসেই মাকে রেসিপি বলে দেন পিয়াসা। সেইমতো রান্না করেন তাঁর মা। প্রতিপদে প্রমাণ করছেন তিনি। ইচ্ছা থাকলে উপায় হবেই হবে।