
শেষ আপডেট: 4 March 2022 12:52
'টয়লেট' সিনেমাটার কথা মনে আছে? গ্রামে কোনও শৌচাগার না থাকার সমস্যা মেটাতে কীভাবে উদ্যোগী হয়েছিলেন এক গৃহবধূ? তেমনই গল্প যেন বাস্তবে ঘটে গেছে এই গ্রামে (Women Empowerment)।
এক সময়ে নিজেদের প্রয়োজনেই এগিয়ে এসেছিলেন ওঁরা। বলেছিলেন, ঠিকাদারের মিস্ত্রিদের তৈরি শৌচাগার নাকি সমস্যা মেটাতে পারছিল না তাঁদের। মনে হয়েছিল এই শৌচাগার তৈরির দায়িত্ব যদি তাঁরা পান, তবে নিজেদের মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারবেন (Women Empowerment)।
ব্যস, যেমন ভাবা তেমনই কাজ। ব্লক প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়ে ফেললেন গুরবারি মান্ডি, বাজারানি মাঝি, লালমণি সরেন, শান্তি মাহাতোরা। নিজেদের শৌচাগার নিজেরাই তৈরি করবেন তাঁরা (Women Empowerment)। প্রশাসনও বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের হাত। তাদের ব্যবস্থাপনায় পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের সবুজসাথী নারীশক্তি সংঘের ২০ জন সদস্যকে শৌচাগার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন। তারপরেই আর পিছনে ফিরে তাকাননি একদা আটপৌরে এই বধূরা। তুমরাশোল ও বাঁশবেড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে ইতিমধ্যেই সারে তেরোশো শৌচালয় তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা (Women Empowerment)।
সাফল্যের সঙ্গে শৌচালয় তৈরির কাজ করার পাশাপাশি এখন বাংলা আবাস যোজনায় ঘরও তৈরি করছেন গুরুবারি, লালমণি, শান্তিরা। সকাল সকাল বাড়ির কাজ সেরে দলবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে পড়ছেন তাঁরা। তারপর নিজেদেরই বাঁধা মাচায় উঠে ইটের উপর ইট গাঁথছেন। মাথায় হেলমেট পরে ঢালাইয়ের জন্য রড বাঁধছেন কখনও (Women Empowerment)। এই রাজমিস্ত্রিদের একজন গুরুবারি মান্ডি আবার বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। এমন একটা দায়িত্ব সামলে সময় পাওয়া যায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার ?
গুরুবারি বললেন, “মেয়েরাই তো ঘর বানায়। সব দায়িত্বও তাঁদেরই নিতে হয়। অসুবিধা হয় কি? এখানে আমরা ঘরের কাঠামোটাও বানাচ্ছি। এই যা। রাজমিস্ত্রির কাজ, সংসারের কাজ, সব সামলেও অনেকটা সময় থাকে। কোনও অসুবিধা হয় না।” (Women Empowerment)
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ওঁরা সবাই। সাফল্যের সঙ্গে শৌচালয় তৈরি করার পরেই ওঁদের ৪৫ দিনের রাজমিস্ত্রির প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে ব্লক প্রশাসন। সেই প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ওরা পুরোদস্তুর নেমে পড়েছেন আবাস যোজনার ঘর তৈরি করতে (Women Empowerment)।
মমতা মাহাতো বললেন, “নিজেদের সুবিধামতো শৌচাগার তৈরি করতে চেয়েছিলাম আমরা। পেরেছি। এখন গ্রামের মেয়েদের রোগভোগ অনেক কম। বাড়তি পাওনা আমাদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য। আগে ঘরে যে অভাব ছিল রাজমিস্ত্রির কাজ করে সেটা দূর করতে পেরেছি। ছেলেমেয়েগুলো অনেক ভাল আছে। পড়াশোনা করছে।”