দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় নারী নিগ্রহ, পাচার এবং মহিলাদের উপর সার্বিক অত্যাচার নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কোনও গা নেই বলে অভিযোগ করলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। দু’দনের বাংলা সফরে এসেছেন তিনি। শনিবার তিনি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবের। আগে থেকে তাঁদের জানিয়ে, সময় নিয়ে তিনি এসেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে জানানো হয়েছে তাঁরা দেখা করতে পারছেন না।
মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন আরও বলেছেন, যাঁদের বৈঠকে পাঠানো হয়েছিল তাঁদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। তাঁর অভিযোগ, “উত্তরবঙ্গে বেশি নারী পাচার হচ্ছে। অত্যাচার নিগ্রহ বাড়ছে। রাজ্যে নারীদের ওপর অত্যাচার হলেও সুরাহা হচ্ছে না। অভিযোগে পাত্তা দিচ্ছে না প্রশাসন ও পুলিশ। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের সবার বক্তব্য, পুলিশ কিছুই করেনি।”
রেখা শর্মার অভিযোগ, “২৭৩ টি কেস, ৬ টি সুয়ো মোটো কেসের সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে কোনও তথ্য নেই। গত ৬ মাসে মহিলা নির্যাতনের কেসের আপডেট দিতে পারেনি পুলিশ।” তিনি সমস্ত রিপোর্ট রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।
যদিও জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় মহিলা কমিশনের রাজনীতিকরণ করছে।” শ্যামপুকুরের বিধায়কের আরও বক্তব্য, “নারী পাচার বেশি যখন উত্তরবঙ্গে হচ্ছে, বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তো অধুনা বিজেপি সাংসদের নামই জড়িয়েছিল। কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছিল এক বিজিপি নেত্রীকেই। তাহলে তাঁদের প্রশ্ন করা হোক!” হাথরাসের বীভৎস ঘটনার পর সেখানে কেন জাতীয় মহিলা কমিশন যায়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শশী পাঁজা।
বিজেপি থেকে বাম, কংগ্রেস—রাজ্যের বিরোধী দলগুলির বক্তব্য বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। তাঁদের বক্তব্য, সমাজ বিরোধীরা সবাই তৃণমূলের ছাতার তলায় রয়েছে। আর পুলিশ তাদের ধরছে না। সে কারণেই অপরাধ বাড়ছে। কার্যত বিরোধীদের সেই বক্তব্যেই যেন সিলমোহর দিয়ে দিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন।