
শেষ আপডেট: 25 November 2023 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, রায়গঞ্জ: একের পর এক আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন স্বামী। সাত মাস আগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত থানার বাইরেই হাতের শিরা কেটে আত্মহ্যার চেষ্টা করেন তরুণী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটিকে ঘিরে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ার জেলা সাইবার ক্রাইম থানা চত্বরে জোর শোরগোল শুরু হয়।
তরুণী জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর আগে মৃত্যুঞ্জয় ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। মৃত্যুঞ্জয় পেশায় ব্যবসায়ী। করণদিঘিরর টুঙ্গিদিঘির সাধনপুরের বাসিন্দা। প্রথম দিকে দিব্যি চলে দম্পতির সংসার। বিয়ের ৩ মাস পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি হয়। মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসেন বাপের বাড়িতে। কিন্তু তারপরও স্বামীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পাননি বলে দাবি তাঁর। সম্প্রতি তরুণীর আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেন তাঁর স্বামী। অর্থ উপার্জনের জন্য স্বামী এই কাজ করেন বলে অভিযোগ।
গত এপ্রিলে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। অভিযোগ জানিয়ে প্রথমে তিনি করণদিঘি থানার দারস্থ হন। সেই থানার পুলিশকর্মীরা নির্যাতিনতাকে রায়গঞ্জ সাইবার ক্রাইম থানায় যেতে বলেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাস ধরে লাগাতার আইনি সাহায্য চেয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ বধূর।
শুক্রবার নির্যাতিতাকে অভিযুক্ত স্বামী এবং তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে বসে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সাইবার ক্রাইম থানায় ডাকা হয়। সেই মতো এদিন বিকাল ৪ টে নাগাদ থানায় মাকে নিয়ে হাজির হন নির্যাতিতা। কিন্তু সন্ধে ৬ টার পরও কেউ আসেনি। অভিযোগ, সাইবার ক্রাইম থানার মহিলা পুলিশ কর্মীরা নির্যাতিতাকে ৬ টার পরে আরও বেশি অপমান করে থানা থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরই ওই থানা চত্বরে নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি তরুণীর৷
রক্তাক্ত অবস্থায় তরুনীকে অবস্থা দেখে ঘাবড়ে যান রায়গঞ্জ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ আধিকারিকরা৷ ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসেন রায়গঞ্জ জেলার ডিএসপি ট্রাফিক। খানিক বাদে আসেন রায়গঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার ও করনদিঘি থানার আইসি পলাশ মহন্ত। গুরুত জখম অবস্থায় তরুনীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে স্থানীয় এনজিও কর্মীদের তাঁর কাউন্সিলিং এর জন্য ডাকা হয়।
তরুণীর মায়ের অভিযোগ, ''সব জায়গায় পয়সা নিয়ে জামাইয়ের পক্ষে হয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাঁরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছেনা।'' যদিও রায়গঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার এবিষয়ে বলেন, ''এটি একটা পারিবারিক সমস্যা৷ আমরা ওই গৃহবধুর সঙ্গে আছি। উনি ডিপ্রেশন থেকে এরকম করেছেন। নিশ্চয়ই বিচার পাবেন।''