
শেষ আপডেট: 16 November 2022 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: রবি ঠাকুরের শুরু করা পৌষ মেলা (Poush Mela) এবার আদৌ হবে তো? বিশ্বভারতী-বোলপুর পুরসভার দড়ি টানাটানি না মেটায় পৌষ মেলা নিয়ে সংশয় থেকেই গেল। এই নিয়ে বুধবার বিশ্বভারতী ও বোলপুর পুরসভার (Shantiniketan) বৈঠক ছিল। কিন্তু সেখানে কোনও সমাধানসূত্র বেরল না। ফলে জেলবন্দি অনুব্রত মণ্ডল যতই পৌষ মেলা করার নির্দেশ দিয়ে থাকুন না কেন এখনই তা নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
বুধবার পৌষ মেলা নিয়ে বিশ্বভারতী ও বোলপুর পুরসভার বৈঠকে উভয়পক্ষই মেলার আয়োজন সংক্রান্ত বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ফের একপ্রস্থ আলোচনার পরই ঠিক করা হবে আদৌ পৌষ মেলা হবে কিনা। রাজ্যের বাইরে থাকায় বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী (Bidyut Chakraborty) এই বৈঠকে ছিলেন না। সূত্রের খবর, সেই কারণেই মেলা আয়োজন নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
পৌষ মেলা এর আগে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট আয়োজন করত। কিন্তু করোনার জন্য ২০২০ সালে মেলা বন্ধ রাখা হয়৷ ২০২১ সালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বোলপুর-শান্তিনিকেতনবাসী, ব্যবসায়ী, পড়ুয়া, আশ্রমিক সকলেই চেয়েছিলেন কোভিড বিধি মেনেই ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা হোক৷ কিন্তু উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী না চাওয়ায় শেষপর্যন্ত বিশ্বভারতী মেলা আয়োজন করেনি। শেষে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ নামে একটি সংগঠন বোলপুর পুরসভার সহযোগিতায় বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে বিকল্প পৌষ মেলার আয়োজন করেছিল। যদিও তাতে ঐতিহ্যবাহী মেলার আমেজ তেমন ছিল না।
এবছর আগে থেকেই সকলে ঐতিহ্যবাহী পূর্বপল্লীর মাঠেই মেলা আয়োজনের কথা বলে। যদিও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ছিল বিভিন্ন মহলে। সপ্তাহখানেক আগে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট লিখিতভাবে জানায় পূর্বপল্লীর মাঠে মেলা আয়োজন করা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তারা জানায় জলের সরবরাহ যথাযথ নেই। এই নিয়ে তারা বোলপুর পুরসভাকেও চিঠি দেয়।
ট্রাস্ট বলে, ভুবনডাঙায় যে চারটি বাঁধ রয়েছে সেই বাঁধগুলি আবর্জনা এবং কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে আছে। এত অল্প সময়ে সেই বাঁধ ঠিক করা সম্ভব নয়। ফলে জলের সমস্যার আশু সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট।
এদিকে পৌষ মেলা আয়োজনের জন্য পূর্বপল্লীর মাঠ ভাড়া চেয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে পাল্টা চিঠি দেয় বোলপুর পুরসভা। এরপর চিঠি দিয়ে মেলার বিষয়ে আলোচনার জন্য বোলপুর পুরসভাকে ডাকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেই মতো বুধবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দু'পক্ষের বৈঠক হয়৷ কিন্তু প্রায় দু'ঘণ্টার বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি।
বৈঠক শেষে বোলপুরের পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ বলেন, "মেলা নিয়ে আমরা ও বিশ্বভারতী আলোচনা করেছি৷ উপাচার্য ছিলেন না৷ উনি ফিরলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আমরা চাই পূর্বপল্লীর মাঠেই মেলা হোক। বিশ্বভারতীকে ছাড়া পৌষ মেলা সম্ভব নয়।" এদিকে বিশ্বভারতীর তরফে কিশোর ভট্টাচার্য বলেন, "ঐতিহ্য মেনে সব মানুষকে নিয়ে আমরাও মেলা করতে চাই। সেই মতো ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বোলপুর পুরসভাকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন সম্ভব নয়৷ উপাচার্য ফিরলে আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব।"
এক সপ্তাহ ধরে বিকল এক্স-রে, ডায়ালেসিস মেশিন, চরম ভোগান্তির শিকার রোগীরা