দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিরাকাটার পাথরকুমকুমির জঙ্গলে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যুতে গ্রামবাসীরা দুষলেন বন আধিকারিকদেরই। তাঁদের মতে, সময় মতো চিকিৎসা করালে হয়তো বেঁচে যেত ওই হাতিটি।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূর্ণবয়স্ক ওই হাতিটি দলছুট হয়ে পড়েছিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, মাঝেমধ্যেই গ্রামবাসীরা তার চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন। হাতিটির অসুস্থতার কথা বনকর্মীরা জানতেন, তা সত্ত্বেও তাঁরা হাতিটির চিকিৎসা করাতে উদ্যোগী হননি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তাঁরা মনে করেন, সময়মতো চিকিৎসা করানো হলে হয়তো বেঁচে যেত হাতিটি।
সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিরাকাটা এলাকায় পাথর কুমকুমির জঙ্গলের পাতা কুড়োতে গিয়ে তাঁরা ওই হাতিটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। তখনই তাঁরা বন দফতরে খবর দেন। হাতিটিকে দেখতে আসেন বনাধিকারিকরা। কী কারণে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে তা জানার জন্য মৃতদেহটি ময়না তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিভাগীয় বন আধিকারিক সন্দীপ বেরওয়াল।
হাতিটির ঘাড়ের ডান দিকে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বনকর্মীরা। কেন সেই আঘাত, তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে এখন হাতির সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হাতি আসত আবার চলেও যেত। কিন্তু বেশ কয়েক বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গলে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে হাতির পাল। তারা পিরাকাটা ছাড়াও বসবাস করে লালগড়, ছিটকা প্রভৃতি জঙ্গলেও। সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের যে শুধু মানুষর সঙ্গে দ্বন্দ্ব হচ্ছে তা নয়, তারা মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যেও মারামারি করছে। তাতে তারা আহতও হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সকালে গ্রামবাসীরা যে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখেছেন, সেই হাতিটি মারামারি করে আহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।