দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড মামলায় কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল সিবিআই। মঙ্গলবারের শুনানিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী ওয়াই জেড দস্তুর বলেন, চিটফান্ড তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। তার মাথায় ছিলেন রাজীব। তিনি কী করেছেন? কম্পিউটরের মনিটরগুলি বাজেয়াপ্ত করেছেন। সিপিইউ নয়? আদালতে সিবিয়াইয়ের প্রশ্ন, কোনও তথ্য কি মনিটরে থাকে? তথ্য তো থাকে সিপিইউ-তে।
এ দিনও সিবিআই তদন্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের অনীহা প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে বলা হয়, অসম সরকার এক কথায় সিবিআই তদন্তে রাজি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাংলার সরকারই ধানাইপানাই করেছে। এ দিনও সিবিআইয়ের তরফে বলা হয়, চিটফান্ড তদন্তের তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছে।
সম্প্রতি রোজভ্যালি তদন্ত নিয়ে রাজীব কুমারকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জেরা করে সিবিআই। এ দিন কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির আইনজীবী বলেন, “তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলায় কেন তিনি বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিনিধি হয়ে আইনজীবীদের সাহায্য করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গেছেন। আবার যখন জেরায় তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন কিচ্ছু জানেন না। যে ব্যক্তি কিছু জানেন না, তিনি আইনজীবীদের কী সাহায্য করবেন ? এর থেকেই প্রমাণিত হয় তার উদ্দেশ্য কী?”
এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ করেছিল সিবিআই। তাদের বক্তব্য ছিল, সারদা কাণ্ডে অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ কল রেকর্ড সিবিআইয়ের হাতে না দেওয়া বা তা নষ্ট করা সবই উপরতলার নির্দেশে হয়েছে। সিবিআই হলফনামায় বলে, তদন্তকারী অফিসারদের জেরা করেই জানা গিয়েছে যে, সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানীর ল্যাপটপ, মোবাইল সব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা করা হয়েছিল, রাজীব কুমারের নির্দেশেই।
এ দিনের শুনানিতেও সিবিআই আদালতকে বলে, ধারাবাহিক ভাবে তদন্তে অসহযোগিতা করছেন রাজীব কুমার। মিথ্যে কথা বলছেন। সিটের কোনও তথ্য দিচ্ছেন না। বুধবার ফের হবে এই মাওলার শুনানি। বিচারপতি মধুমতী মিত্র বুধবার পর্যন্ত রাজীব কুমারের আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন।