দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই মতো বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে চালু হয়ে গেল রাজ্য সরকারে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। উচ্চশিক্ষা, গবেষণার খরচ মেটাতে নেওয়া যাবে ঋণ। কীভাবে এই কার্ডের সাহায্যে শিক্ষাঋণ মিলতে পারে? জেনে নেওয়া যাক।
প্রকল্পের নাম
ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিম।
শিক্ষাঋণের পরিমান
১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সুদের হার
চার শতাংশ। সুদ হিসাব করা হবে সরল সুদ পদ্ধতিতে। অনুমোদিত ঋণের ওপর স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রচলিত এমসিএলআর এর তিন বছর ব্যাপী সুদের হারের সঙ্গে আরো এক শতাংশ যুক্ত হবে। এভাবেই ঋণ অনুমোদন হওয়ার তারিখ সুদের যে হার নির্ধারিত হবে তার গোটা পর্ব জুড়েই নির্দিষ্ট থাকবে। ঋণ অনুমোদনের সময়ে শিক্ষার্থী এবং তার বাবা-মা কিংবা আইনানুগ অভিভাবক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হবেন।
ঋণের গ্যারান্টার
রাজ্য সরকার। ঋণ অনুমোদনের সময় কোল্যাটেরাল সিকিউরিটি বা অন্যান্য বিষয়ে ব্যাংক কোনরকম অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ বা শর্ত আরোপ করতে পারবে না। অভিভাবক বা আইনি অভিভাবকের সহ দায়িত্ব ছাড়া ব্যাংক স্থাবর-অস্থাবর কোন রকম সিকিউরিটি/কোল্যাটারাল সিকিউরিটির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।
কোন কোন ব্যাঙ্ক প্রকল্পের আওতায়?
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক।
কারা পেতে পারে ঋণ
এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও পেশাদার পাঠ্যক্রমে দেশে এবং বিদেশে অবস্থিত স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি, আইআইএম, আইআইএসসি, আইআইইএসটি, আইএসআই, এনএলইউ, এআইআইএমএস, এনআইটি, এক্সএলআরআই, বিআইটিএস, এসপিএ, এনআইডি, আইআইএফটি, আইসিএফএআই, বিজনেস স্কুল ইত্যাদি এবং প্রতিযোগিতামূলক কোচিং সেন্টার যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং/চিকিৎসাবিদ্যা/আইন/ আইএস/আইপিএস/ডব্লিউবিসিএস/ব্যাংক রেলওয়ে/স্টাফ সিলেকশন কমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র হিসেবে নথিভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
কত বছর বয়স পর্যন্ত ঋণের সুবিধা মিলবে?
আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ৪০ এর কম।
অন্য শর্ত
শিক্ষার্থীদের অন্তত দশ বছর ব্যাপী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। এই ব্যাপারে আবেদনকারীর সেলফ ডিক্লারেশন বা স্বেচ্ছা ঘোষণাই যথেষ্ট।
ঋণ পরিশোধের সময়সীমা
মরাটরিয়াম বা স্থগিতকরণের সময় বাদ দিয়ে ক্রেডিট কার্ড মারফত গৃহীত ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে যেকোনো সময় শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মায়েরা আইনানুগ অভিভাবক ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন এবং সময়ের আগে পরিশোধের জন্য ব্যাংক কোন পেনাল্টি বা প্রসেসিং চার্জ দাবি করবে না। নির্ধারিত শিক্ষাবর্ষ জুড়ে ঋণগ্রহীতা যদি যথাযথভাবে সুদ দিয়ে যায় তাহলে সে এক শতাংশ সুদ ছাড় পাবে।
কোন কোন খাতে শিক্ষাঋণের অর্থ খরচ করা যাবে?
- ছাত্রাবাস কিংবা ছাত্রাবাসের বাইরে বসবাসের খরচ বা পেইং গেস্ট হিসেবে থাকার খরচ।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেওয়ার রশিদ সাপেক্ষে কশান মানি/অন্য ফেরত যোগ্য জামানত/ বিল্ডিং ফান্ড/পরীক্ষার খরচ/লাইব্রেরি খরচ/ল্যাবরেটরির খরচ খাতে প্রদেয় টাকা।
- বই/কম্পিউটার ল্যাপটপ/ট্যাবলেট অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার জন্য।
- শিক্ষামূলক ভ্রমণ বা স্টাডি ট্যুর, প্রজেক্ট থিসিস এবং পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ করতে বা এই ধরনের অন্য প্রয়োজনীয় খরচ।
- সম্পূর্ণ কোর্স শেষ হওয়া অবধি অনুমোদিত ঋণের সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত অর্থ প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত খরচ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
- অনুমোদিত ঋণের সর্বোচ্চ কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বসবাসের খরচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে
কীভাবে দরখাস্ত করতে হবে?
ইচ্ছুক শিক্ষার্থী যে স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান মারফত উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত ওয়েব পোর্টালের ফরমেট অনুযায়ী অনলাইন দরখাস্ত করবেন।
ঋণ পরিশোধে সময়ে ছাড়
পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়া অথবা শিক্ষার্থীর চাকরিতে যোগদানের পর থেকে এক বছরের মধ্যে যে সময়টি কম, ততদিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ করা স্থগিত অর্থাৎ মোরাটোরিয়াম অবস্থায় রাখা যাবে।
ঋণ বিমা
অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর নামে একটি জীবন বিমা করা থাকবে। এই বিমার প্রিমিয়াম শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে এবং তা লোন অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
অনলাইনে http://wbscc.wb.gov.in এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। এছাড়া যোগাযোগের জন্য রয়েছে সরকারের টোল ফ্রি নম্বর, 18001028014 । একমাত্র সরকারের শিক্ষা দফতরের ওয়েবসাইট এ এর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।