দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চের দোল থেকে নভেম্বরের ভাইফোঁটা— কোভিড পরিস্থিতি এবার সমস্ত উৎসবকেই গ্রাস করে নিয়েছে। দু’গজ দূরত্ব রেখে কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে পুজো দেওয়া গেলেও ভাইফোঁটা হয় না! তাই দিদির বাড়িতে এবার ঘরের ভাইদেরই ফোঁটা হলেও দলের ভাইদের হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ছয় দাদা-ভাই রয়েছেন। তাঁদের ফোঁটা দিয়েই এবার সীমাবদ্ধ রইল কালীঘাটের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান।
প্রতিবছর দেখা যায় অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সমীর চক্রবর্তীরা দিদির বাড়িতে ফোঁটা নিতে আসেন। যতদূর জানা যায়, এই ভাইদের দিদি আগে থেকে টাইম স্লট দিয়ে রাখেন। ধরা যাক অরূপকে সময় দেওয়া রয়েছে সকাল ১১টায়। সওয়া ১১টায় পৌঁছবেন ফিরহাদ। ঠিক সাড়ে এগারোটায় হয়তো স্লট রয়েছে পার্থবাবুর। আবার ১২টায় সুব্রত বক্সী। এই ভাবে দুপুর গড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে দিদির লিস্টে থাকেন পছন্দের কিছু সাংবাদিক। এই ভাবে চলে দিদির বাড়ির ফোঁটা পর্ব। ফোঁটা দেওয়ার পর ভাইদের হাতে পাজামা-পাঞ্জামি উপহার দেন দিদি। কিন্তু বসে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে না। হাতে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় লাঞ্চ বক্স। যতদূর জানা গিয়েছে, এবার ফোঁটা না হলেও ভাইদের বাড়ি বাড়ি উপহারের পোশাক আর খাবারের প্যাকেট পৌঁছে গিয়েছে দুপুরের আগেই।
কিন্তু আজ, তৃণমূলে জল্পনা, এবার সত্যিই ভাইফোঁটা হলে একটা হইচই কাণ্ড বেঁধে যেত! কী হইচই? গতবছর ভাইফোঁটার দিন দিদির বাড়ির নিমন্ত্রিতের তালিকায় সংযোজন হয়েছিল। তাতে উল্লেখযোগ্য নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। কাঁথি থেকে কালীঘাটে ফোঁটা নিতে এসেছিলেন শুভেন্দু। দিদি যেমন তাঁকে পাজামা-পাঞ্জাবি দিয়েছিলেন তেমন তিনিও দিদিকে শাড়ি দিয়েছিলেন। শাসকদলের নেতারা বলাবলি করছেন, গতবার যখন দিদি তাঁকে নেমন্তন্ন করেছিলেন সেই হিসেবে এবারও ডাকার কথা। কিন্তু এবার তো পরিস্থিতি অন্য। তৃণমূলের অনেকে এও বলছেন দিদির সঙ্গে গত কয়েক মাস যাবৎ কথাবার্তা নেই শুভেন্দুর। পরিবহণমন্ত্রীর যখন করোনা হয়েছিল তখনও নাকি শিশির অধিকারীকে ফোন করেই মুখ্যমন্ত্রী খবর নিতেন। অন্যান্য নেতারা শুভেন্দুকে ফোন করলেও দিদির ফোন যায়নি যায়নি তাঁর কাছে।
উনিশের লোকসভায় মুর্শিদাবাদের দুটি আসন দিদিকে এনে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের দু’টি আসন তো আছেই। মুর্শিদাবাদে গতবারই প্রথম খাতা খুলেছে তৃণমূল। কাকতালীয় ভাবে গতবারই দিদির বাড়িতে ফোঁটায় প্রথমবার নেমন্তন্ন পেয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এবার যদি ভাইফোঁটা হত, আর দিদি যদি ডাকতেন, তাহলে কি শুভেন্দু আসতেন?
তৃণমূল নেতারা বলছেন! ইসস! এবারটা মিস হয়ে গেল। কেন? তাঁদের মতে, দিদি যদি শুভেন্দুকে না ডাকতেন তাহলে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যেত। আর নেমন্তন্ন পাওয়ার পর যদি শুভেন্দু না আসতেন তা হলেও সাদা কালোয় স্পষ্ট হয়ে যেত।
দিদির ঘনিষ্ঠ কারা? তৃণমূলের অনেকে বলেন, আসলে দিদির প্রিয় পাত্র কারা তা বোঝা যায় ভাইফোঁটার নিমন্ত্রিতের তালিকা দেখলেই। এমনও দেখা গিয়েছে অতীতে, দিদি নেমন্তন্নই করেননি অথচ এক অরুণ মন্ত্রী কালীঘাটে গিয়ে হাজির হন ফোঁটা নিতে। এক বর্ষীয়ান মন্ত্রীও একবার এমন কাণ্ড বাঁধিয়েছিলেন। দিদির কাছের নেতারা বলেন, তিনি এসব একদম পছন্দ করেন না। বিরক্ত হন।
গতবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ও বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে দিদির বাড়ি গিয়েছিলেন। তার আগে অবশ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কানন। কিন্তু তাঁকে ফেরাননি মমতা। ফোঁটা দিয়েছিলেন। বৈশাখী আবার দিদিকে ডার্ক চকোলেট দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। এবার পুজোতেও শোভন বৈশাখীকে পাঞ্জাবি ও শাড়ি পাঠিয়েছিলেন দিদি। তা আবার ফলাও করে ফেসবুকে লিখেও ছিলেন শোভন-বান্ধবী।
এবার দিদির বাড়ি দলের ভাইদের ফোঁটা না হওয়ার ফলে যাঁরা হিসেব মেলানোর জন্য বসেছিলেন তাঁরাও বেশ নিরাশ হলেন।