
শেষ আপডেট: 18 May 2022 06:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্দিরের অধিকার ও পুজো করা নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিবাদ পুরোহিতের পরিবারের। এই ঘটনার জেরে আজব ফতোয়া জারি করল গ্রামের মোড়লরা। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় হ্যান্ডবিল ও পোস্টারিং করে একঘরে করা হল সেই পুরোহিতের পরিবারকে। মঙ্গলবার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapur) দাসপুর থানার নাড়াজোল গ্রামে।
সেই পোস্টারগুলিতে লেখা, ওই পরিবারের সঙ্গে যারা যোগাযোগ রাখবে, তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে নাড়াজোল গ্রামের (West Midnapur) বাসিন্দা মোহিনীমোহন চক্রবর্তীর মন্দিরে পুজো ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে গ্রামকে উপেক্ষা করেই আদালতে মামলা করেন মোহিনীমোহন চক্রবর্তী। সেই মামলাতে হেরে যান তিনি।
নানুরে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে জামাইয়ের ছুরির কোপে প্রাণ গেল শাশুড়ির
এরপরেই গ্রামের মোড়লরা মোহিনীমোহন চক্রবর্তীকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে নাড়াজোলের বিভিন্ন জায়গাতে পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে তারা ফতোয়াও জারি করে।
আর এই ফতোয় ঘিরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দাসপুর থানার পুলিশ। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এভাবেও একটা পরিবারকে একঘরে করা মানতে পারছে না প্রশাসন। তড়িঘড়ি এলাকার সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। গ্রামের ওই মোড়লদের পাশাপাশি ওই পুরোহিতের পরিবারকেও আগামী ১৯ মে দাসপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে যাদের নামে এই ফতোয়া, সেই পুরোহিত মোহিনীমোহন চক্রবর্তীর ছেলে রাজীব চক্রবর্তী জানান, নাড়াজোলের রাজার আমল থেকেই তাঁদের পূর্বপুরুষ এমনকি তাঁর বাবাও ওই মন্দিরের পূজারী ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই গ্রামবাসীদের সঙ্গে কিছু সমস্যার জেরে তাঁদেরকে আর পুজো করতে দেওয়া হয়নি।