দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরুতেই স্কুল খোলার আবেদন জানাল ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস। গতকাল ফের স্কুল খোলা নিয়ে এক বৈঠকের পর, পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দফতরে তারা এই আবেদন জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরটিআই ফোরামের সদস্যরা, স্কুলের প্রিন্সিপালরা, মেডিকেল প্রফেসনালরা, সিলেবাস কমিটির কয়েকজন সদস্য।
গতবছর মার্চ মাসের শেষ থেকে সম্পূর্ণভাবেই স্কুল, কলেজ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এর কারণে, বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলেমেয়েরাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, একদিকে যেমন শিশুশ্রম বাড়ছে, তেমনই কমবয়সী মেয়েদের নিয়ম ভেঙেই বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছেন মা-বাবারা।
অন্যদিকে বাড়ির অশান্ত পরিবেশের কারণে, ঘরবন্দি অবস্থায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে। এই দিকগুলো চিন্তা করেই তাঁরা বৈঠকে বসেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে ফের স্কুল খোলার আর্জি জানান শিক্ষা দপ্তরে।
যেহেতু ভ্যাকসিন চলে এসেছে, সেকারণেই করোনা ভাইরাস নিয়ে শিশুদের মনের ভয় সবার আগে দূর করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মতে ভাইরাস নিয়ে প্যানিক করছে বলেই স্কুল-বিমুখ শিশুরা। স্কুল খোলার আগে সমস্ত নিয়মবিধি মেনে স্কুলের গ্রাউন্ড, ঘর, সবকিছুই ভাল করে স্যানিটাইজ করা বাধ্যতামূলক। ফলে স্কুলে এলেও শিশুদের মনে কোনও ভয় থাকবে না।
আবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথাও তাঁরা তুলেছেন। এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শিফট ভাগ করে ক্লাস করা যেতে পারে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাছাড়াও যেসব শিশুরা ড্রপ আউট হয়েছে, যাঁরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, তাঁদের আলাদা করে খেয়াল রাখা প্রয়োজন বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে লকডাউন পরবর্তীতে প্রতিটা স্কুলেই একজন করে কাউন্সিলর রাখার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।