
শেষ আপডেট: 8 November 2023 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: নেতা থেকে মন্ত্রী, তৃণমূলের বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতৃত্বের বাড়িতে প্রায়ই হানা দিচ্ছে ইডি। বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় কখনও কাউকে ডেকে পাঠাচ্ছে, আবার কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে জেরা। সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। সবমিলিয়ে একের পর এক দুর্নীতি ইস্যুতে বিরোধীদের আক্রমণে কার্যত অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মন্তব্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। তৃণমূলে কয়েকজন ‘কুলাঙ্গার’ আছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী। ঠিক কাকে নিশানা করে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন তা নিয়েই শুরু হয়েছে প্রশ্ন।
সম্প্রতি মালদহের কালিয়াচক থানার অলিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকার দাবিতে পথসভা করেন সাবিনা ইয়াসমিন। সেই মঞ্চে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন মামলায় ইডি-সিবিআই তদন্ত এবং নেতা-মন্ত্রীর গ্রেফতারির প্রসঙ্গ। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''বাড়িতে কুলাঙ্গার ছেলে থাকলে, পুলিশ যদি তাকে গ্রেপ্তার করে, তাহলে বাপ-মা কী করবে? বাপ-মা শাসন করার পরেও একটা কুলাঙ্গার ছেলে বেরিয়ে যাচ্ছে।''
ঠিক এরপরই উদাহরণ ধরে নিজের পার্টির কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের পার্টিতেও কিছু কুলাঙ্গার ছেলে আছে। যে পাপ করবে তাকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। দল কি কাউকে বলেছে টাকা নিতে? তার জন্য দল কিংবা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী নন।’’
রেশন দুর্নীতির মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে চাপাউতোর। এরই মাঝে আবার বুধবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। যা নিতান্তই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তৃণমূলের একাংশের।
ইডি সূত্রের খবর, আরও অনেক তৃণমূল নেতা তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। তবে কি নির্দিষ্ট কাউকে নিশানা করেছেন মন্ত্রী সাবিনা? যদিও তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট করে কারও উদ্দেশে তিনি কিছু বলেননি। পুরোটাই তদন্তের বিষয়। কিন্তু অনেকে নেতা-মন্ত্রীর নামে টাকা তুলে থাকেন। শুধুমাত্র তাঁদের ‘সাবধান’ করতেই তাঁর বার্তা বলে জানান সাবিনা।