দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেনের নিরপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। যা নিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতর তৈরি হয়েছে।
গত রবিবার মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে গিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা পরিষদের এক সদস্য সম্প্রতি প্রয়াত হন। তাঁর স্মরণ সভায় যোগ দিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সেই সভায় যোগ দিয়েছিলেন মোশারফ। কাকতালীয় হল, তার পরের দিনই জেলা পরিষদের সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মোশারফ বলেছেন, "আমি যখন সোমবার আমার নিরাপত্তারক্ষীদের ফোন করি তখন তাঁরা ফোন তোলেননি। পরে জানতে পারি তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।" এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার ওয়াই এস রাজকুমারকে চিঠি লিখেছেন মোশারফ হোসেন।
রাজ্যপাল এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন। পুলিশ সুপারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার শুভেন্দুর ওই সভায় যাতে জেলার নেতারা না যান তার জন্য অলিখিত নির্দেশ জারি হয়েছিল। তার পরেও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ অসংখ্য সদস্য ও স্থানীয় পঞ্চায়েতে ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং বড় অংশের কর্মীরা সেই সভায় যোগ দিয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদে একটা বড় সময় তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু। তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভায় মুর্শিদাবাদে দুটি আসন জিতেছে তৃণমূল। অতীতে কখনও মুর্শিদাবাদ থেকে লোকসভায় জেতেনি তৃণমূল। ফলে ওই জেলায় শুভেন্দুর অনুগামী সংখ্যা কম নয়। তাঁদের অনেকের অভিযোগ, দাদার সভায় যাওয়ার জন্যই মোশারফ সাহেবের সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের সভায় চ্যালেঞ্জ ছোড়ার পর বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেননি শুভেন্দু। বুধবার সকালে বিদ্যাসাগর সমবায় ব্যাঙ্কের বৈঠকে যোগ দিলেও মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন পরিবহণ সেচমন্ত্রী। এদিন ক্যাবিনেট বৈঠকে যোগ দেননি বনমন্ত্রী তথা ডোমজুড়ের বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও।