পাইপ ফেটে বিপত্তি, জলে ভাসল হাওড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলের পাইপ ফেটে বিপত্তি হাওড়া জেলা হাসপাতালে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ চারতলায় জলের একটি পাইপ ফেটে যায়। তার ফলে হু হু করে জল নামতে থাকে হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে।
যখন পাইপ ফেটে জল নামা শুরু হয় তখন বেশ কয়কটি ওয়ার্ডে জল ঢুকে যায়।
শেষ আপডেট: 2 January 2020 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলের পাইপ ফেটে বিপত্তি হাওড়া জেলা হাসপাতালে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ চারতলায় জলের একটি পাইপ ফেটে যায়। তার ফলে হু হু করে জল নামতে থাকে হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে।
যখন পাইপ ফেটে জল নামা শুরু হয় তখন বেশ কয়কটি ওয়ার্ডে জল ঢুকে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় মানসিক রোগীদের ওয়ার্ডে। জল ঢুকে যায় মেল এবং ফিমেল ওয়ার্ডেও।
সেই সময় হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়রাও ছিলেন। তাঁরা অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যান। হাওড়া হাসপাতালটি বেশ পুরনো হওয়ায় সিঁড়িতে পরিসর কম। জল নামতে থাকায় সিঁড়িও পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। কোনও বিপদ অবশ্য হয়নি বলে খবর।
পাইপ ফেটে জল বেরিয়ে একের পর এক ওয়ার্ড ভেসে যাওয়ায় ঝাঁটা ও অন্য সরঞ্জাম নিয়ে হাসপাতাল পরিষ্কার করতে লেগে যান হাসপাতালের কর্মীরাই। খবর দেওয়া হয় পূর্ত বিভাগে।
জলের ট্যাঙ্ক খালি হয়ে বেলা আড়াইটে নাগাদ জল বেরনো বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রয়োজনীয় মেরামতিও তাঁরা করে দেন। হাওড়া হাসপাতালে আচমকা পাইপ ফেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য রোগীর আত্মীয়রা দুষছেন পূর্ত বিভাগকেই। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পাইপলাইন পূর্ত দফতর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করেনি বলেই এই বিপত্তি।

হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চক্রবর্তী এব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। তিনি শুধু জানান, পূর্ত বিভাগে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে চিকিৎসার গাফিলতি থাকে এমনও নয়, আবার রোগী রেফার করার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই বলেই চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় হাসপাতালের আগুন প্রাণঘাতীও হয়েছে। কিন্তু জলের পাইপ ফেটে এমন বিপত্তি সাম্প্রতিক অতীতে কোথাও হয়েছে বলে কেউই মনে করতে পারছেন না।
বেলা আড়াইটে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পাইপ ফেটে ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে জল বেরিয়ে তা খালি হয়ে যাওয়ার ফলে রোগীদের কোনও সমস্যা হয়েছে কিনা, শৌচালয় ঠিক ভাবে ব্যবহার করা গেছে কিনা কিংবা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিঘ্ন ঘটেছে কিনা সেব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।