
শেষ আপডেট: 3 July 2023 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়াল চাপা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা নিল আসানসোল৷ দক্ষিণ থানার ডামরা এলাকার ঘটনা৷ পরিস্থিতির মধ্যস্থতা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে শাসক দল তৃণমূলের পার্টি অফিস৷ সেখানে ভাঙচুর চালান স্থানীয়রা৷ একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ সাত লাখ টাকার দাবিতে রাস্তায় দেহ ফেলে রেখে চলছে বিক্ষোভ৷ পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনার বহর৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ৷
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় একটি পুরনো বাড়ি ভাঙার কাজ চলছিল৷ সেই সময় খোলা বাউরি নামে এক শ্রমিক সেই বাড়ির দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য বেরিয়ে আসতে গেলে ভাঙা বাড়ির আরও একটি দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে তার ওপর ভেঙে পড়ে৷ ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। মৃত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা। এরপরই ক্ষতিপূরণের দাবিতে ডামরা মোড় এলাকায় রাস্তার ওপর দেহ রেখে পথ অবরোধ শুরু করেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন।
বেশ কিছুক্ষণ পথ অবরোধ চলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সংশ্লিষ্ট বাড়ি ভাঙার কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ঠিকাদার মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা না বলে, সরাসরি চলে যান শাসক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে। ইন্দিরাভবন নামে সংশ্লিষ্ট পার্টি অফিসটিতে বসেন এলাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীনা কুমারী হাঁসদা৷ অভিযোগ, কাউন্সিলরের মাধ্যমে তিনি বিষয়টির রফা করার চেষ্টা শুরু করেন৷
তাতেই জনতার রোষের আগুনে কার্যত ঘৃতাহুতি হয়! পার্টি অফিসের দিকে রে রে করে তেড়ে যান জনতা৷ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যান ঠিকাদার এবং তৃণমূলের কাউন্সিলর৷ এরপরই ক্ষিপ্ত জনতা পার্টি অফিসে দেদার ভাঙচুর চালান৷ একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেহ ফেলে রেখে চলছে বিক্ষোভও৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন পুলিশের স্থানীয় কর্তারা৷
তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলার মীনা কুমারী হাঁসদা বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক৷ দেওয়াল চাপা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দু’পক্ষকে নিয়ে মধ্যস্থতায় বসেছিলাম৷ তখনই আচমকা বচসা থেকে মারামারি শুরু হয়ে যায়৷ পার্টি অফিসেও ভাঙচুর চালায়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদারের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ঠিক নয়৷ তবে যেহেতু এলাকার ঘটনা, তাই আমি দু’পক্ষকে নিয়ে ফের আলোচনায় বসে সমস্যার সুরাহা করার চেষ্টা করব৷ নগদ সাত লাখ টাকার দাবিতে অবশ্য অনড় রয়েছেন বাসিন্দারা৷ তবে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে এভাবে পার্টি অফিসে গণবিক্ষোভে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ঠ অস্বস্তিতে শাসকদলের স্থানীয় নেতারা৷
আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে স্কুলের বাগানে বাঁধা হচ্ছিল বোমা, অধীরের গড়ে রাজনৈতিক তরজা