
শেষ আপডেট: 16 August 2023 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: স্ত্রীর কাছ থেকে এবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাধিপতির ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নিলেন বিশ্বনাথ বাউরি (viswanath bauri)। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এই দায়িত্ব নিলেন। ২০১৮ সালে থেকে এতো দিন সভাধিপতির দায়িত্ব সামলেছেন বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী সুভদ্রা বাউরি।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ। শপথ বাক্য পাঠ করান অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল। পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তথা আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি অভিজিৎ ঘটকও উপস্থিত হয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
তবে এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কালোবরণ মণ্ডলের অনুপস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়। কেন তিনি উপস্থিত থাকলেন না, সে বিষয় জানার জন্য ফোন করা হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নতুন সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, দল যে দায়িত্ব দিল, তা যথাযথ ভাবে পালন করার চেষ্টা করে যাবেন। ব্লকের মানুষেরা যাতে সরকারি পরিষেবা ঠিকমতো যাতে পান, তা দেখবেন।
সভাধিপতি আরও বলেন, 'কীভাবে জেলা পরিষদের আয় বাড়ান যায়, তা দেখব। তার জন্য জেলা পরিষদের যেসব অব্যবহৃত সম্পত্তি রয়েছে, তা ব্যবহার করা যায় কিনা, তা আলোচনা করব।'
তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এদিন বলেন, 'জেলা পরিষদের নতুন বোর্ড স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গোটা এলাকায় উন্নয়নের কাজ করবে। আগামী দুদিনের মধ্যেই কর্মাধ্যক্ষদের বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী সপ্তাহে এই বিষয় নিয়ে তাঁরা প্রথম বৈঠক করবেন।'
পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই কে হবেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহসভাধিপতি তা নিয়ে জল্পনা বেশ কয়েকদিন ধরে চলছিল। বেশ কয়েকজন এই দুই পদের দৌড়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় বিশ্বনাথ বাউরিকেই বেছে নেওয়া হল । অন্যদিকে, তার সহকারী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষ্ণুদেব নুনিয়াকে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রথম জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেই বছরের ১৯ জুন থেকে ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা পরিষদের প্রথম সভাধিপতির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথবাবু। জেলা গঠনের পরে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ছিল। সেই আসনে বসেন রানিগঞ্জের বিশ্বনাথ বাউরি। এর পরে, ২০১৮ সালে এই পদটি তফসিলি জাতি মহিলার জন্য সংরক্ষিত ছিল। তখন এই পদে বসেন বিশ্বনাথবাবু স্ত্রী সুভদ্রা বাউরি। বিশ্বনাথ বাউরিকে গত পাঁচ বছর তাঁর সহযোগিতার জন্য মেন্টর পদে রাখা হয়েছিল। এবার এই পদটি অসংরক্ষিত ছিল। তাই ভোট ব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে শাসক দলের জেলা নেতৃত্ব আবার বিশ্বনাথের হাতে লাগাম তুলে দিল বলে রাজনৈতিক মহল। এবারে ১৮টি আসন শাসক দলের দখলে গেছে।
বর্ষায় ভেঙে পড়ল রতনবাবুর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়ি, এক বছর ধরে স্কুলবাড়িতে বাসিন্দারা