শুভদীপ পাল, বীরভূম: রবীন্দ্রনাথ তখন সতেরো। বিদেশযাত্রার আগে আরো সড়গড় হতে মেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথ তাঁকে পাঠিয়েছেন মুম্বইয়ে। চিকিৎসক আত্মারাম তড়খড়ের বাড়িতে উঠেছেন কবি। সেখানেই পরিচয় আত্মারামের দ্বিতীয় কন্যা অন্নপূর্ণার সঙ্গে। সুন্দরী, চৌখস অন্নপূর্ণা ওরফে আনার উপরই ভার পড়েছিল কিশোর কবিকে ইংরেজিতে আরও তুখোড় করে তোলার। সেই পড়াশোনার ফাঁকেই কখন যেন সুদর্শন, স্বভাব লাজুক কবিকে ভালবেসে ফেলেছিলেন আনা। কবির থেকে একটা নাম চেয়েছিলেন আনা। কবি নাম রেখেছিলেন নলিনী।
রবীন্দ্রনাথের জীবনের এই অংশটুকু নিয়েই ছবি "নলিনী, টেগর'স ফার্স্ট লাভ"। পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। নলিনীর ভূমিকায় অভিনয় করার কথা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে সেই ছবির শ্যুটিংয়ের অনুমতি দিল না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এই বিষয়ে সিনেমার পরিচালক, উপাচার্য এবং আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও বাণিজ্যিক সিনেমার শ্যুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অনুমোদিত সিনেমা বা তথ্যচিত্র শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর সমস্ত দিক বিবেচনা করেই অনুমতি দিতে পারে।
ছবিটির পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, "দীর্ঘ এক বছর ধরে লেখা স্ক্রিপ্ট সহ সব কিছু দেখে তৎকালীন উপাচার্য স্বপন দত্ত শ্যুটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পুরো বিষটি মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে জানিয়েছি।"
বিশ্বভারতীতে সিনেমার শ্যুটিং নিয়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বপন দত্ত উপাচার্য থাকার সময় উপাসনা মন্দিরে সিনেমার শ্যুটিং ঘিরে বিতর্ক চরমে ওঠে। আশ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শান্তিনিকেতনের একাধিক বাড়ি, ভাস্কর্যকে কেন্দ্রীর সরকার হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম উপাসনা মন্দির, ছাতিমতলা, পাঠভবন, মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা, কলা ও সংগীত ভবন । কিন্তু বিভিন্ন সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক সিনেমার শ্যুটিংয়ের এর অনুমতি দিয়ে বিশ্বভারতীর এই সমস্ত ঐতিহ্যকে ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে। এর পরেই ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হয়ে সবুজকলি সেন সিদ্ধান্ত নেন শান্তিনিকেতনে কোনও বাণিজ্যিক সিনেমার শ্যুটিংয়ের অনুমতি দেবে না বিশ্বভারতী।
সেই সিদ্ধান্তই বজায় থাকল "নলিনী, টেগর'স ফার্স্ট লাভ" এর ক্ষেত্রেও।