দশমীতে কাদা-খেলায় মাতলেন গ্রামবাসীরা! বাঁকুড়ার দুর্গামন্দিরে প্রথা মেনেই উমা-বিদায়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের প্রথা। সেই ধারাবাহিকতা মেনে এবারও বিজয়া দশমীতে জয়পুরের বৈতল গ্রামে ঝগড়ভঞ্জনী দুর্গা (Durga) মন্দিরের সামনে অনুষ্ঠিত হল 'কাদা খেলা'। এলাকার আট থেকে আশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিলেন এই ব্যতিক্রমী আনন্দোৎসব
শেষ আপডেট: 15 October 2021 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের প্রথা। সেই ধারাবাহিকতা মেনে এবারও বিজয়া দশমীতে জয়পুরের বৈতল গ্রামে ঝগড়ভঞ্জনী দুর্গা (Durga) মন্দিরের সামনে অনুষ্ঠিত হল 'কাদা খেলা'। এলাকার আট থেকে আশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিলেন এই ব্যতিক্রমী আনন্দোৎসবে।
কচুশাক আর পান্তা খেয়ে, বেহারাদের কাঁধে চড়ে কৈলাশের পথে বসিরহাট রাজবাড়ির উমা
রীতি মেনে এলাকার সাতটি পুকুরের জল ঢেলে মন্দিরের সামনে পুকুর তৈরি করা হয়। বিজয়া দশমীর সকাল থেকে সেই জলে হয় 'কাদা খেলা'।
জনশ্রুতি, বিষ্ণুপুরের রাজপরিবারের একটা অংশ বর্ধমানের রাজা কিনে নেন। এই নিয়ে শুরু হয় মামলা। বিষ্ণুপুর রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ যাচ্ছিলেন বর্ধমান। তাঁর যাওয়ার পথেই ঝগড়াই চণ্ডীর মন্দির। রাজা মন্দিরে প্রণাম সেরে বেরিয়ে দেখেন সামনের বিশাল বটগাছের নীচে একটি ছোট্ট মেয়ে একা কাদামাটি নিয়ে খেলা করছে। তার সারা গায়ে কাদাজল। রাজাকে দেখেই বালিকা বলে, 'আয় খেলবি আয়।' কিন্তু রাজা জানান, তাঁর অনেক কাজ, সেই বর্ধমান যেতে হবে মামলা লড়তে।'
তখন ওই বালিকা তাঁকে বলে, ‘‘মোটে চিন্তা করিস না, জিতে যাবি।’’
রাজা বলেন, যদি জিতি ফেরার সময় খেলা করব তোর সঙ্গে। এই বলে রাজা তাঁর গন্তব্যে রওনা হন। রাজা সেই মামলায় জেতেন এবং ফেরার সময় সেপাই-সান্ত্রী নিয়ে কাদা খেলেন মন্দির চত্ত্বরে। আর সেই থেকে প্রতিবছর বিজয়ার দিন অনুষ্ঠিত হয় কাদাখেলা।
শারীরিক কারণে যাঁরা যোগ দিতে পারেন না, তাঁদের পরিজনরা এখানকার মাটি তুলে নিয়ে যান তাঁদের জন্য। বছরের পর বছর ধরে জয়পুরের বৈতল গ্রামে এই প্রথা চলে আসছে। সময়ের নিয়মে নানা পরিবর্তন এলেও এই প্রথা কিন্তু বাঁচিয়ে রেখেছেন গ্রামের মানুষ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'