
শেষ আপডেট: 3 April 2024 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ হল জলপাইগুড়িতে। ত্রাণ দিতে এসে ঘেরাও হলেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে তাঁদের আটকে রাখলেন জলপাইগুড়ির দক্ষিণ সুকান্তনগর এলাকার বাসিন্দারা।
বাসিন্দারা জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাঁদের এলাকার দেড় শতাধিক মানুষ। কারও বাড়ি ভেঙে পড়েছে। কারও বাড়ির চাল উড়ে গেছে। কিন্তু মাত্র ছ'জনের নামে এদিন ত্রাণ এসেছিল। বিষয়টি জানতে পেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, যে ছ'জনের নামে ত্রাণ এসেছে তাঁদের মধ্যে চারজনের বাড়ির কোনও ক্ষতিই হয়নি। তবুও ত্রাণ পেয়েছেন। কিন্তু যাঁদের যথার্থই ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা ত্রাণ পাননি। পঞ্চায়েত থেকে নাম পাঠানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা।
তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির মহাদেব রায় বলেন, "আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি পঞ্চায়েত থেকে কারও নাম ত্রাণের জন্য পাঠানো হয়নি। কে নাম পাঠিয়েছে তাও বলতে পারব না। ভোটের মুখে আমার নামে বদনাম করতেই এ সব ইচ্ছে করে রটানো হচ্ছে।"
রবিবার বেলা সাড়ে ৩ টে নাগাদ জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাপক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। ১৫ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে চারজনের মৃত্যু হয়। আহতের সংখ্যাও বহু। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জলপাইগুড়ি শহর, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ির বেশ কিছু এলাকা ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু মানুষের বাড়ি ভেঙে পড়ায় নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছেন তাঁরা। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে রবিবার রাতেই জলপাইগুড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যপালও। দুর্গত এলাকাগুলিতে ত্রাণবিলি শুরু হলেও, পরের দিন থেকেই চলছে ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ। এদিনের বিক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিডিও মিহির কর্মকার জানান, কেন ওখানে মাত্র ছ'জনের ত্রাণ পাঠানো হল, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, "এখন যেহেতু ভোটের আদর্শ আচরণবিধি জারি রয়েছে তাই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও কথা বলা যাবে না। সরকারি কর্মীরাই তালিকা তৈরি করবেন। এক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্তরা অবশ্য়ই ক্ষতিপূরণ পাবেন।"