
শেষ আপডেট: 25 September 2023 01:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াইফাই ছাদবাগান গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বর্ধমানের সনৎ সিংহ। ঝাঁপানতলায় তাঁর বাড়ির ছাদে মরসুমি ফুল আর সবজিতে ছয়লাপ হয়ে আছে। তবে গোটাটাই নাকি প্রযুক্তির কল্যাণে। সময় কম, তাই বাগানের পরিচর্যায়ও আধুনিক প্রযুক্তিই কাজে লাগিয়েছেন সনৎ। ওয়াইফাই আর রাউটার ব্যবহার করেই নাকি গাছে জল দেন। সনৎ যেখানেই থাকুন, এমনকি কয়েকশো কিলোমিটার দূরে হলেও মোবাইলের এক ক্লিকে জল ছেটানো হয়ে যায় গাছে! সেই সঙ্গে নজর রাখছে সিসিটিভিও। দেখুন ভিডিও।
এমন অভিনব ছাদবাগান এর আগে কেউ দেখেছেন কি না কে জানে! শহরের বুকে সবুজের প্রতি ভালবাসা বাঁচিয়ে রেখেছেন গুটি কয়েক মানুষ। সনৎ তাঁদেরই একজন। বাড়ি লাগোয়া বাড়তি জমি নেই, কিন্তু ছাদের একফালি জায়গাই যে স্বর্গোদ্যান হতে পারে। সেই চিন্তায় বিভোর চলেন সনৎ। আর তারপর পথ বাতলে দিলেন বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্দ্ধমান এক্সটেনশনের ডিন, অধ্যাপক তপন মাইতি। সনৎ সিংহ যে ওখানকারই আধিকারিক। বর্ধমানের ঝাপানতলায় তাঁদের নিজস্ব তিনতলা বাড়ি। সেই বাড়ির দুটো ছাদ। ল্যান্ডিং এমনকি সিঁড়িতেও এখন গাছ আর গাছ। আলু, লঙ্কা, হলুদ, মরসুমি সিম, মূলো, বেগুন, বিনস শুঁটি, টম্যাটো, কী নেই সেই ভিড়ে! আর আছে চোখ জুড়নো ফুল বাগানের শোভা।
বাড়ির ছাদেই রাশি রাশি ফলন। বিশুদ্ধ আদা, হলুদ, আলুর স্বাদই যে আলাদা। নিজেরা খেয়েও পড়শি আর বন্ধুদের খাওয়াচ্ছেন সনৎ, তাতেই আনন্দ। অধ্যাপকের উৎসাহেই এই বাগান কাজ শুরু। তাঁর কথায়, 'লকডাউনের আগে থেকে কাজ শুরু করি। তবে লকডাউনের মধ্যে পুরো সময়ই বাগান তৈরি করে ফেলি।' শুধু তাই খেতেও ভাল এই ফল-সবজির জানালেন জানালেন তিনি। তবে ছাদবাগানে কোন রাসায়নিক প্রয়োগ করেন না সনৎ।ভার্মিকম্পোস্ট, ডিমের খোসা, গোবর, খোল এসবই দেন। তাতেই যে চমৎকার ফল মিলেছে। সে বাগান এখন ঝাঁপানতলার বিস্ময়! সনতের মতো একজন অত্যাধুনিক বাঞ্চারামের কীর্তি নতুন প্রজন্মকেও দিশা দেখাচ্ছে।