
শেষ আপডেট: 27 September 2024 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: প্রাক্তন সেনা কর্মী ও তার ভাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে গলা কেটে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। কাটা মুন্ডু নিয়ে চা বাগানে ঘুরেছিল ঘাতকরা। জলপাইগুড়ি রায়পুর চা বাগানে ঘটে যাওয়া সেই হাড়হিম করা ঘটনায় ৪ অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ১৭ ই মার্চ। অন্যদিনের মতোই চা বাগানে কাজ চলছিল। ওই দিন সকাল ৯ টা নাগাদ সালিসি সভার নামে চা বাগানের ফ্যাক্টরির কাছে ডেকে আনা হয় চা বাগানের বাসিন্দা, প্রাক্তন সেনা কর্মী মনবধ নায়েক ও তার ভাই শিবনাথ নায়েককে। সেখানেই মালু ওরাও, ধনসিং ওড়াও, সমা লোহার সহ অন্যান্যরা এদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মনবধ নায়েকের গলা কেটে ফেলা হয়। ওই দৃশ্য দেখে তার ভাই শিবনাথ নায়েক পালাতে গেলে তার পিছু ধাওয়া করে অভিযুক্তরা। এরপর তাকে চা বাগানের কালীবাড়ির সামনে ধরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মালু ওড়াও দুই ভাইয়ের কাটা মুন্ডু নিয়ে চা বাগানে ঘুরে বেড়ায়।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পার্থ চৌধুরী বলেন, "ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। শুরু হয় মামলা। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে মামলা চলার পর বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট থার্ডকোর্টের বিচারক বিপ্লব রায় ৪ অভিযুক্ত মালু ওড়াও, সমা লোহার, ধনসিং ওড়াও ও ফাগু সোহাসিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শুক্রবার তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত মালু ওড়াও এদিন আদালতে যাওয়ার পথে দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনজীবী দ্যুতি রায় জানিয়েছেন জেলা আদালতের এই রায় তারা মেনে নেবেন না। উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।