
শেষ আপডেট: 14 December 2019 12:52
বাইশ গজি প্রাচীর[/caption]
ইতিহাস নগরীতে সুরক্ষিত নয় দ্বাদশ শতক ও তার আগের স্থাপত্য। খসে পড়ছে ইমারতের চাঙড়। অসাধু লোকজন ইট খুলে নিয়ে গিয়ে বাড়ি বানাচ্ছে বলেও অভিযোগ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের অনেকে এই অভিযোগ স্বীকারও করে নিয়েছেন।
৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে মালদা শহর থেকে মাত্র প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এগোলেই সুস্থানি মোড়। সেখান থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্ত। এই পনেরো কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে সুলতানি আমলের বেশ কয়েকটি স্থাপত্য। চিকা মসজিদ, ফিরোজ মিনার, দাখিল দরওয়াজা, বারোদুয়ারি, ফতে খাঁর সমাধি, কদম রসুল মসজিদ প্রভৃতি। এইসব দর্শনীয় স্থানকে নিয়ে গড়ে তোলা যেত পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু অবহেলা ও অনাদরে ধুঁকছে ইতিহাস।
[caption id="attachment_168338" align="aligncenter" width="600"]
রক্ষণাবেক্ষণ নেই, খুলেও নেওয়া হচ্ছে গৌড়ের এই প্রাচীরের ইট।[/caption]
এখানেই রয়েছে সেন রাজাদের বাইশগজি প্রাচীর। রাজধানী গৌড়ের সীমানা-প্রাচীর এটিই। এই প্রাচীরের বয়স পাঁচশো বছরের বেশি তো বটেই। কারণ ১২১৩ খ্রিস্টাব্দে এই প্রাচীরের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি। তখন নাকি পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন লক্ষ্মণ সেন, তিনিই সেন বংশের শেষ রাজা। যে দরজা দিয়ে তিনি পালিয়েছিলেন, সেটি এখন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশপথ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই প্রাচীর এখন ভেঙে পড়ছে, দেওয়াল থেকে খসে পড়েছে ইট। এই ইট অনেকে খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ।
[caption id="attachment_168343" align="alignnone" width="600"]
চিকা মসজিদ[/caption]
তিরিশ বছর পরে চিকা মসজিদ দেখতে এসেছিলেন মালদহেরই বাসিন্দা জগন্নাথ ঘোষ। তিনি বলেন, “আগে যত সুন্দর দেখেছি এইসব স্থাপত্য, এখন আর সে সব অতটা ভাল নেই। অনেক কিছুই ভেঙে গেছে অযত্নে।”
এএসআই-এর কর্মী সুভাষচন্দ্র দাস বলেন, “এখানে আমাদের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, বিদ্যুৎ নেই। নিরাপত্তার অভাব তো রয়েইছে। আমরা সে কথা রাজ্য সরকারকে জানিয়েছি। তবে এখানে ইট চুরি যায় না। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের কর্মীরা এ ব্যাপারে নজর রাখেন।”
পর্যটনের পরিকাঠামো যে এখানে নেই সে কথা তিনি অবশ্য মেনে নিয়েছেন। এতগুলি দর্শনীয় স্থান রয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে, অথচ শৌচালয় স্রেফ একটা। তা ছাড়া বিদ্যুৎ নেই বলে পর্যটকদের ফিরে যেতে হয় সন্ধ্যার আগেই। অনেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন বলেও তাড়াতাড়ি ফিরে যান।