দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোরক্ষার নাম নিয়ে কখনও খুন হচ্ছেন মুসলিমরা। কোথাও বা হিন্দু তরুণীর সঙ্গে বসে কথা বলার জন্য গণরোষের শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘু তরুণ। আবার ঘোড়ায় চড়ার জন্য বেধড়ক মারা হচ্ছে দলিতকে। দেশজুড়ে এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে প্রায়ই।
ইংরাজি শব্দ লিঞ্চ ব্যবহার করে কেউ কেউ বলছেন, এই দেশের নাম লিঞ্চ-ই-স্তান। কেউ আবার বলছেন, দেশ নয় বিদ্বেষ।
বিরোধীদের সেই অভিযোগকেই এবার মান্যতা দিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের সংগ্রহ করা তথ্য জানাচ্ছে, শুধু এই বছরের প্রথম ছ’মাসেই, দেশ জুড়ে ১০০টা এমন অপরাধ ঘটেছে যার মূলে আছে ঘৃণা বা বিদ্বেষ। এর মধ্যে ৬৭টি দলিত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। আর ২২টার শিকার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ৪২ টি ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে মানুষের। ১৩ টা ঘটনায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মহিলারা যৌন অপরাধের শিকার হয়েছেন।
এই বিদ্বেষজনিত অপরাধে প্রথম উত্তরপ্রদেশ। সেইখানে ঘটেছে ১৮ টি এমন ঘটনা। তারপরেই আসছে গুজরাতের নাম। সেখানে ঘটেছে ১৩ টি ঘটনা। আটটা করে এমন ঘটনা নিয়ে তিন নম্বরে – রাজস্থান, তামিলনাড়ু এবং বিহার। প্রসঙ্গত উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং রাজস্থান বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিহারেও চলছে নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ) এর সঙ্গে বিজেপির জোট সরকার।
স্বভাবতই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, এই তথ্য কি তবে মান্যতা দিল না বিরোধীদের অভিযোগকে? প্রমাণ করল না মেরুকরণের রাজনীতির জন্যই দেশ জুড়ে বাড়ছে বিদ্বেষের বাতাবরণ?
এই পুরো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার ‘হল্ট দ্য হেট’ নামক বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েবসাইটে।
এই প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, আকার পটেল জানাচ্ছেন, ‘বেশির ভাগ ঘটনাই খুব মর্মান্তিক। কোথাও দলিতদের মারা হচ্ছে ঘোড়ায় চড়ার জন্য। মুসলমানদের মারা হচ্ছে গোহত্যার অজুহাত দিয়ে, দলিত মহিলাদের ধর্ষণ করে জ্বালিয়ে মারা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের রিপোর্টেও ভারতের এই বিদ্বেষমূলক অপরাধ বাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল অ্যামনেস্টি। উঠে এসেছিল গৌরী লঙ্কেশের মতো সাংবাদিকদের খুন হওয়ার ঘটনা।
দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, বর্তমান বিজেপি সরকার কেন্দ্রে আসার পর থেকেই বেড়েছে একের পর এক এমন ঘটনা। একদিকে যেমন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে খুন হয়েছেন কালবুর্গি, পানসারে, গৌরী লঙ্কেশের মতো বুদ্ধিজীবীরা, তেমনই গোমাংস খাওয়ার বা গোহত্যার অভিযোগে খুন করা হয়েছে দেশের সংখ্যালঘুদের। বেড়েছে দলিতদের ওপরে আক্রমণের ঘটনাও। রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যা নিয়েও অভিযোগের তির হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধেই।
একই সঙ্গে বেড়েছে দেশজুড়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যও।