রফিকুল জামাদার
ভোট আসছে। এখন প্রায় দিনই রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় জনসভা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তেমনই সভা ছিল হুগলির পুরশুড়ায়। সেই সভাতেই গরহাজির প্রবীর ঘোষাল। উত্তরপাড়ার বিধায়কের উপস্থিত না থাকা অনেকেরই নজর কেড়েছে আলাদা করে। নিজেরই জেলায় দলীয় নেত্রীর এত বড় সভা, অথচ সেখানে রইলেন না প্রবীরবাবু! উল্টে জানালেন, "যা বলার তা কাল সাংবাদিক বৈঠক করে বলব।"
কী বলবেন প্রবীরবাবু! ইতিমধ্যেই ঘনিয়েছে জল্পনা।
বস্তুত, গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে যা চলছে, তাতে স্বাভাবিক ভাবেই এই অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হওয়া অবধারিত। দলের কর্মীদের একাংশ নানাকিছুই অনুমান করছেন, কী বলতে পারেন তিনি আগামীকাল। এমনও শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দুর মতো দলবদল করতে পারেন এই বিধায়কও। কারণ গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর নানা মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে দলের প্রতি অসন্তোষ ও অনুযোগ ধরা পড়েছে। এসবের মধ্যে নিজের জেলার দলীয় সভায় তাঁর অনুপস্থিতি তাতপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে টেলিফোন করা হয় প্রবীক ঘোষালকে। তিনি ফোনে বলেন, "হ্যাঁ আমি আজ যাইনি সভায়। কাল বেলা সাড়ে বারোটায় আমার কোন্নগরের অফিস থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে উত্তর দেব, কেন যাইনি।"
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ১৫ তারিখেই প্রবীর ঘোষাল বলেছিলেন, ‘‘লোকসভায় আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছিল। তার পরে সংগঠনে পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু তা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সংগঠন এবং সরকারের কাজকর্ম দুদিকেই বেশ কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে। এটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই।’’
নিজের এলাকার একটি রাস্তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন প্রবীরবাবু। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করছেন। কিন্তু উন্নয়নে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সেটা মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। আমার এলাকার একটা রাস্তা দু’টি পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। রাস্তাটি সারানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দরবার করছেন মানুষ। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এগুলোর সমাধান করতে না পারলে ২১ শের লড়াই কঠিন হবে।’’
এই সব মন্তব্যে চাপা ছিল না দলের প্রতি তাঁর অসন্তোষ। অনেকের কানেই বেসুরো ঠেকেছিল তাঁর কথাগুলি। এখানেই শেষ নয়, ২০ তারিখে ফের মুখ খোলেন প্রবীরবাবু। এবার তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পনা করে তাঁকে নির্বাচনে হারানোর চেষ্টা চলছে। কেন? প্রবীরবাবুর বক্তব্য, তিনি বারবার জানানো সত্ত্বেও কোন্নগরের রাস্তা মেরামতির ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি তৃণমূল পরিচালিত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
পরপর দু'দিন দলের প্রতি এই অনুযোগ উগরে দেওয়ার পরে আজ তাঁর দলীয় সভায় হাজিরা না দেওয়া অনেকের চোখেই বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে ধরা দিয়েছে। এখন আগামীকালের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনীতি মহল।