
শেষ আপডেট: 28 July 2022 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরবর্তী সময়ে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের আয় কমেছে প্রায় অর্ধেক। বেড়েছে সংসার চালানো ও খাওয়ার খরচ। ফলে বাড়ছে ঋণ (Poverty)। ‘খাদ্য ও কাজের অধিকার অভিযান পশ্চিমবঙ্গ’ একটি সমীক্ষায় এমনটাই তথ্য তুলে ধরল বৃহস্পতিবার।
এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিষয়টিতে সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য পেশ করা হয়। রাজ্যের মোট ৩.৪২ কোটি মানুষ (Poverty) এই সমস্যায় পড়েছেন। উত্তরবঙ্গের অবস্থা তুলনায় খারাপ। লকডাউনের পর এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০টি সংস্থার সঙ্গে ১৬টি জেলায় সমীক্ষার পর ওই তথ্য উঠে এসেছে। লকডাউনের সময়ের অনিশ্চয়তা আর এখনকার পরিস্থিতির মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই বলেও মনে করছেন সমীক্ষকরা।
বিশ্বজুড়ে খাদ্যের সঙ্কটের মাপকাঠিতে ওই সমীক্ষাটি হয়েছে। সমীক্ষায় বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মহিলা। সংসার চালাতে কত খরচ হয়, তা বিশদে জানা গেছে। বেশিরভাগ উত্তরদাতাই ছিলেন গ্রামীণ এলাকার। যার মধ্যে ২৩ শতাংশ ছিলেন তফশিলি ও উপজাতি। এছাড়াও ১৩ শতাংশ ছিলেন অন্য বঞ্চিত মানুষ (Poverty)। যেমন, ছিলেন যৌনকর্মী ও চা শ্রমিকরা।
দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষেরই মাসিক আয় ১৫ হাজারের কম। মাত্র ২ শতাংশ মানুষের মাসিক আয় ১৫ হাজার (Poverty)। বেশিরভাগ অকৃষি শ্রমিক। অংসগঠিত ক্ষেত্রে মাসিক বেতনে কাজ করেন ২৫ শতাংশ মানুষ। এখনও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ৩৫ শতাংশ মাসে মাত্র দু–তিন বার মাছ–মাংস খেতে পারছেন। গত মাসে ৭৫ শতাংশ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারেননি।
এই পরিস্থিতি কী বদলাবে?
সমীক্ষায় ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের পর পরিস্থিতি কিছুই বদলায়নি। আর বদলানোর কোনও আশাও দেখছেন না তাঁরা (Poverty)। এটা শুধু করোনার জন্য নয়। সরকার আর সরকারের প্রকল্পের ওপরেই তাঁদের কোনও ভরসা নেই। সরকারি অধিকার থেকে তাঁরা বঞ্চিত। ৩০ শতাংশ মানুষ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল। কিন্তু পরে কাজ চলে যায়। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সরকারি প্রকল্পের ৬ হাজার টাকা পেয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ। সমীক্ষকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা সরকারি সাহায্যের সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন।