দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংযুক্ত মোর্চা (united front) যেন কর্পূর! গত এপ্রিল-মে মাসেও গন্ধে ম ম করছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরেই তা উবে গেল। সিপিএমের (cpm) পার্টি চিঠি, দলীয় নথিতে ভোটে হারের পরেও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা লিখেছিলেন, আগামী পুর ও উপনির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার (congress) তরফেই লড়াই হবে। কিন্তু এদিন ভবানীপুর (bhowanipore), জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জে ভোটের যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বামেরা, তাতে সেই মোর্চার কথা নেই। ভবানীপুরের ক্ষেত্রে লেখা হয়েছে বামফ্রন্ট (left front) মনোনীত সিপিএম প্রার্থী কোথাও বা আরএসপি।
ভবানীপুর কেন্দ্রে যে তরুণ আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হবে তা মঙ্গলবারই দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল। হয়েছেও তাই। তা ছাড়া জঙ্গিপুরে প্রার্থী করা হয়েছে আরএসপির আলম মিঞা ও জঙ্গিপুরে মোদাসার হোসেন।
ভবানীপুরের তরুণ সিপিএম প্রার্থী আলিপুর জজ কোর্টের আইনজীবী।
এদিন শ্রীজীব বলেন, কলেজে পড়ার সময়েই তিনি এসএফআইয়ের কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই সিপিএমের সদস্যপদ পান। এই নির্বাচন কঠিন হলেও লড়াই করার কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “এই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ৩৬৫ দিনের। ভোটটা তার অংশমাত্র।”
কংগ্রেস যে ভবানীপুরে প্রার্থী দেবে না তা গতকালই স্পষ্ট হয় গিয়েছিল। বামেরা সেই ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্তের কথা অধীর চৌধুরী ঘোষণা করার পরেই বামেরা জানিয়েছিল বুধবারই তারা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেবে।
এদিন সময় নষ্ট না করে বামফ্রন্ট সেই ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে মোর্চাও লাটে উঠে গেল। ফিরল সেই বামফ্রন্ট। এ ব্যাপারে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বামফ্রন্ট চার দশক ধরে চলছে। এটা একটা ফ্রন্ট। মোর্চা ফ্রন্ট নয়। আমরা বামফ্রন্টের বিকল্প হিসেবে মোর্চাকে তুলেও ধরিনি। তবে আমরা চাইনা সংযুক্ত মোর্চায় ইতি পড়ে যাক। দেখা যাক কী হয়!”
যদিও সিপিএমের একটা অংশ বলছে, যে মোর্চা শুধুমাত্র ভোটের জন্য তৈরি হয়, যার কোনও আন্দোলন সংগ্রামে যে মোর্চার কোনও ছাপ থাকে না তার আয়ু এরকমই হয়। সিপিএমের এক নেতার কথায়, বামপন্থীদের অবক্ষয় এটাই যে আমরাও শুধুমাত্র ভোটের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছি।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যে ছেদ পড়ছে তা গতকালই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই তিন কেন্দ্রের ভোটে আইএসএফের কথাও উল্লেখ করেনি বামেরা। অর্থাৎ আলিমুদ্দিন-ফুরফুরা শরিফ সমীকরণের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল।