দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে এক মাসেরও বেশি দিন ধরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়ের অবসান হল। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি ও কংগ্রেসের সমর্থনে জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। সন্ধ্যায় শিবাজি পার্কে শপথ নেওয়ার পরেই তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ডাকেন রাত আটটায়। সহ্যাদি গেস্ট হাউসে প্রথম বৈঠক হয়।
শিবাজি পার্কে উদ্ধব ঠাকরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যান এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার, তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে ও জামাই সদানন্দ সুলে। পরে আলাদা ভাবে শপথ অনুষ্ঠানে যান শরদের ভাইপো অজিতও। গত শনিবারই তিনি শরদের বিরুদ্ধে গিয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে সমর্থন করে দেন, শপথ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। পরে অবশ্য শরদের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন ডিএমকের প্রধান এমকে স্ট্যালিন, ডিএমকে নেতা টিআর বালু এবং কংগ্রেসের আহমদ পটেল ও মহাবিকাশ আগদির নেতারা। তবে রাহুল গান্ধী এ দিন আসতে পারেননি বলে চিঠি পাঠান।
উদ্ধবের সঙ্গে শরিক দলের দু’জন করে মন্ত্রিও শপথ নেন।
https://twitter.com/OfficeofUT/status/1200061635001569280
শপথ নেন কংগ্রেসের কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট ও নীতিন রাউত এবং এনসিপির ছগন ভুজবল ও সুভাষ দেশাই।
https://twitter.com/supriya_sule/status/1200054120696037378
উদ্ধব ঠাকরে শপথ নেওয়ার পরেই তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া।
https://twitter.com/narendramodi/status/1200048700556492802
https://twitter.com/H_D_Devegowda/status/1200042487315697665
https://twitter.com/rajnathsingh/status/1200053804692996096
এই সরকার সব ধরনের উন্নয়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1200040761384783873
শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের এই জোটকে সমাজবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ জোট বলে বর্ণনা করেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমনন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।
https://twitter.com/yadavakhilesh/status/1200040797963350016
শপথ নেওয়ার পরে বৃহস্পতিবারই স্ত্রী রশ্মি ও পুত্র আদিত্যর সঙ্গে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের সুনাম ছিল কার্টুনিস্ট হিসাবে। শিবসেনার দলীয় মুখপত্র সামনায় তাঁর বহু কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ছেলে উদ্ধবের অবশ্য সুনাম রয়েছে ফোটোগ্রাফার হিসাবে। ‘মহারাষ্ট্র দেশ’ ও ‘পাহাবা বিত্তল’ নামে ছবির উপরে তাঁর দু’টি বই আছে।
ঠাকরে পরিবার কোনও দিনও প্রশাসনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। চিরকাল পারিবারিক বাসভবন মাতুশ্রী থেকেই শিবসৈনিকদের পরিচালনা করে এসেছেন বালাসহেব। পরে উদ্ধবও সেই ধারাই বজায় রেখে চলেছিলেন। বাবার মতো তিনিও প্রতি বছর দশেরায় শিবাজি পার্কে বক্তৃতা করে আসছেন। এই প্রথম তাঁদের পরিবারের কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ওরলি থেকে লড়ে ভোটে জেতেন উদ্ধবের ছেলে আদিত্য। আর ধারার বিপরীতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলেন উদ্ধব।
তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তাঁর তুতো ভাই তথা মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে। এদিন শিবাজি পার্কে সত্তর হাজারের বেশি লোক হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।