
শেষ আপডেট: 18 February 2023 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দুজন শিক্ষিকা (teachers)। স্কুলের ছাত্রী সংখ্যা কিন্তু ঢের বেশি। প্রায়ই এক ক্লাসে পড়া দিয়ে অন্য ক্লাস সামলাতে ছুটতে হয় দুই শিক্ষিকাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে এলাকার দুই যুবক যুবতীকে মাসোহারার বিনিময়ে নিয়োগ করা হল। এমনি ভাবেই চলছে কেতুগ্রামের নিরোল কনকলতা জুনিয়র গার্লস স্কুল (Burdwan school)।
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় এই স্কুলে। দুজন শিক্ষিকা। তাই নিয়মিত বাদ যায় একের পর এক ক্লাস। অভিযোগ, হাসি, মজা করেই বেশিরভাগ দিন ছাত্রীরা বাড়ি যায়। নিয়ম করে মিডডে মিলের পর ছুটি হয়ে যায় স্কুল। এমন কি স্কুল শুরু ও ছুটির ঘণ্টাও বাজাতে হয় শিক্ষিকাদেরই। শুনতে অবাক লাগলেও স্কুলে নতুন সেশন শুরু হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত অংকের ক্লাস হয়নি।
জানা গেছে, ২০১০ সালে স্কুলটি সরকারি অনুমোদন পায়। শুরুর দিকে ঠিকঠাক চললেও কয়েক বছর যেতে না যেতেই শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৩১৭ জন। শিক্ষিকা দুজন। শিক্ষা দফতর থেকে শুরু করে প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের। তাই শেষ পর্যন্ত পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের কথা ভেবেই অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ এলাকার দুই শিক্ষিত যুবক যুবতীকে মাসোহারার বিনিময়ে অলিখিত নিয়োগ করেছেন। যদিও দুই শিক্ষিকা ও ওই যুবক-যুবতী ক্লাস নিলেও বাদ পড়ে বহু ক্লাস।
দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবকরা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাজলক্ষ্মী মণ্ডল পড়ানোর জন্য দুই যুবক যুবতীকে টাকার বিনিময়ে রাখা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই বিষয়ে কেতুগ্রাম চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক কুন্তল দত্ত বলেন, “এই স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদন হয়েছে। তবে এখনও তাঁদের নিয়োগ হয়নি। আর টাকার বিনিময়ে পড়ুয়াদের পড়ানোর জন্য এই ভাবে কাউকে রাখা যায় না।” সমস্ত শুনে মহকুমাশাসক অর্চনা পি ওয়াংখেড়ে বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে বিষয়টি জানাব। ছাত্রীদের তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকা কম তাও জানানো হবে। এই বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাব। টাকার বিনিময়ে টিচার রাখার বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।”
জাল ড্রাফট দিয়ে গাড়ি কিনতে এসেছিলেন, প্রতারক পাকড়াও বর্ধমানে