শেষ আপডেট: 11 December 2019 10:21
ব্যারাকপুরে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকলে আরপিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই কলেজছাত্রী। রেলপুলিশ তাদের ট্রেনের কামরা থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। তখন ওই দুই পলাতক ভয়ে আরও সিঁটিয়ে যায়। তাদের অনেকটা ধাতস্থ করে পুলিশ জানতে পারে তাদের নাম সুবীর সাহা, বয়স আট বছর এবং সুমিত্রা সাহা, বয়স সাত বছর। তাদের বাড়ি বড়বাজারে জোড়াবাগান এলাকায়। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় বকুনির ভয়ে তারা বড়বাজার স্টেশন থেকে একটি ট্রেনে উঠে পড়েছিল বলেও জানায়। কিন্তু তারপরে আরও ভয় পেয়ে যায়।
ব্যারাকপুর আরপিএফের ইনস্পেক্টর জয়ন্তকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, “কলেজছাত্রী আমাদের খবর দেওয়ার পরেই আমরা ওদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নিই। ওরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ওদের জল দিই, বিস্কুট দিই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করি। প্রথমে বলতেই চাইছিল না। আমরা বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করেও কোনও ফল পাইনি। অনেক পরে তারা বাড়ির ঠিকানা ও বাবার নাম বলে। একটি ফোন নম্বরও বলে। সেই সূত্র ধরেই বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করি।”
কাউকে উদ্ধার করা হলে পুলিশ তাদের একটি সাইটে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির ছবি আপলোড করে দেয়। সব থানাই তা দেখতে পায়। থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করা থাকলে দ্রুত যোগাযোগ করা হয় থানা থেকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে থানাও কোনও জবাব দেয়নি। তবে তার পরেও আরপিএফ তাদের ঠিকানা খুঁজে বার করে বাড়িতে খবর দেয়।
পলাতক দুই ভাইবোনের বাবা সমীর সাহা ও মা প্রিয়াঙ্কা সাহা হাজির হন ব্যারাকপুরে। তখন রাত এগারোটা বেজে গেছে। তাঁরা নিজেদের ও সন্তানদের উপযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর পরে রাত বারোটা নাগাদ তাঁদের হাতে সন্তানকে তুলে দেন রেলপুলিশের আধিকারিকরা। ওই কলেজছাত্রীর নাম তাঁরা জানাতে চাননি।