
চোপড়ায় পৌঁছল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
শেষ আপডেট: 4 July 2024 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: বৃহস্পতিবার চোপড়ার নির্যাতিত তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে পৌঁছলেন ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিটিরপ্রতিনিধিরা। প্রায় দু'ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। কথা বলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। এলাকার মানুষদের থেকেও বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি তাঁরা। চারজনের এই প্রতিনিধি দলে একজন মহিলা আধিকারিকও রয়েছেন।
এদিকে চোপড়া কাণ্ডে আরও দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম আব্দুল রউফ ও তাহেরুল ইসলাম। দুজনেই চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই নিয়ে এই ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হল। ঘটনার ভিডিও দেখেই এদের চিহ্নিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তাজিমুল ওরফে জেসিবিকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে ভাইরাল হয় চোপড়ায় গণপিটুনির একটি ভিডিও। ভিডিওয় দেখা যায়, মাটিতে ফেলে পেটানো হচ্ছে এক যুগলকে। কঞ্চি দিয়ে উন্মত্তের মতো চলছে মার! ভিড় করে দাঁড়িয়ে দেখছেন সবাই, কিন্তু বাধা দিচ্ছেন না কেউ। ভিডিওটি পোস্ট করেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেনি দ্য ওয়াল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত ওই তরুণ-তরুণী চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামের দীঘলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্য়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ, এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই ডাকা হয় সালিশি সভা। তাতে মুখ্য ভূমিকা ছিল জেসিবির। তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এই দাপুটে নেতা জেসিবির ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে গোটা এলাকা। মারধর করতে দেখা যায় তাকেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় জেসিবি নামের ওই নেতা ইনসাফ সভার নামে নাকি এমন সালিশি সভা ডেকেছে আগেও। আর সেই সব সভায় আগেও এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে অনেককেই। এই ভিডিওটি পোস্ট করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম লেখেন, 'সালিশি সভার নাম করে, অপরাধের বিচার করে শাস্তি দিচ্ছে তৃণমূলের পোষা গুন্ডা। তার ডাকনাম জেসিবি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে এ ভাবেই বিচার ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে যাচ্ছে চোপড়ায়।’ কড়া সমালোচনা করে বিজেপিও।
সমালোচনার মুখে পড়ে তড়িঘড়ি তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতা তাজিমুল ওরফে জেসিবিকে। আদালতে তোলা হলে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই কাণ্ডে জড়িত অন্যদের খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ধৃত আব্দুল রউফ ও তাহেরুল ইসলামকে এদিন আদালতে তোলা হয়।