দুর্ঘটনা নাকি পারিবারিক বিবাদের জের? আগুনে পুড়ে ছাই পাশাপাশি দুই ভাইয়ের বাড়ি, ঝলসে মৃত দুই শিশু-সহ চার
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: দাউদাউ করে জ্বলছে টিনের চালার দু’টো বাড়ি। বাইরে থেকে তখন জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। আগুন সামান্য নিয়ন্ত্রণে আসতেই দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখা যায় ঝলসে গেছে দুই শিশু কন্যা। মানিকচক থানার মদন
শেষ আপডেট: 3 February 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: দাউদাউ করে জ্বলছে টিনের চালার দু’টো বাড়ি। বাইরে থেকে তখন জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। আগুন সামান্য নিয়ন্ত্রণে আসতেই দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখা যায় ঝলসে গেছে দুই শিশু কন্যা। মানিকচক থানার মদনটোলা গ্রামে রবিবার রাতে এই ঘটনার পরই এলাকা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পেট্রলের খালি বোতল। দুই বাড়ি মিলিয়ে অগ্নিদগ্ধ আরও সাত। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে সোমবার সকালে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, নিছক দুর্ঘটনা নয়, এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে রয়েছে পারিবারিক বিবাদের জের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, চার ভাই বিকাশ, লক্ষণ, মাখন ও গোবিন্দ মণ্ডলের বাড়ি পাশাপাশি। তার মধ্যে বিকাশ ও গোবিন্দের বাড়ি দুই প্রান্তে। মাঝে লক্ষণ ও মাখনের বাড়ি। বিকাশ ও গোবিন্দের বাড়িতেই আগুন লাগে গতকাল রাতে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশু শুভশ্রী ও প্রিয়ার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল শিশুকন্যা দু’টির বাবা গোবিন্দ ও মা রেখাকে। অন্যদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসা চলছিল তাঁদের অন্য ভাই বিকাশ, তাঁর স্ত্রী ববিতা ও তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোমবার সকালে মৃত্যু হয় গোবিন্দ ও বিকাশের। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে গোবিন্দ ও বিকাশের ভাই মাখন। বিবাদের সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। মূলত সম্পত্তির মালিকানাকে কেন্দ্র করে। তাঁদের বাবা গেদুধর মণ্ডল ছিলেন রাজ্য পুলিশের এনভিএফ-এর কর্মী। কর্মরত অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাবার মৃত্যুর পর সেই চাকরি পান তাঁর ছোট ছেলে গোবিন্দ। এই নিয়েই সমস্যা শুরু হয় পরিবারে। বিকাশ দিনমজুরি করে রোজগার করেন। পেশার খাতিরে লক্ষণ থাকেন ভিন্ রাজ্যে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে সেই মাখন পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর সঙ্গেই মূলত ঝামেলা বাধত বাকি ভাইয়ের।
পুলিশ জানিয়েছে, বিকাশ ও গোবিন্দর বাড়ির সদর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল। পাশের গলিতেই পড়েছিল বেশ কয়েকটা পেট্রলের খালি বোতল। তাই প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই দুই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত কারা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই প্রসঙ্গে মাখন মন্ডলের স্ত্রী কাঞ্চন বলেছেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই চার ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা চলছে। গতকাল রাতে আমার দুই ভাসুরের বাড়িতে যখন আগুন লাগে আমার স্বামী বাড়ি ছিলেন না। ডিউটিতে গেছিলেন। আমার ঘরও বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। চিৎকার করতে গ্রামবাসীরাই দরজা খোলেন। আমার স্বামী এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত’’
আরও পড়ুন: বাংলায় সাংবিধানিক ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে, সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং
গতকাল রাতের ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনা খুব মর্মান্তিক। আমরা সব রকম ভাবে পরিবার দু’টির পাশে রয়েছি। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তার তদন্ত করছে পুলিশ। কেউ দোষী থাকলে তার উপযুক্ত শাস্তি হবে।’’
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন