
শেষ আপডেট: 19 April 2023 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ট্রপিক্যাল অর্কিডের (Tropical Orchid) জগৎ গড়ে উঠছে জলপাইগুড়িতে। সেখানেই ফুটবে রংবেরঙের অর্কিড। মূলত বিকল্প চাষের দিকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চাষিদের ঝোঁক বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন বিভাগ।
জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) মোহিত নগরে দশ একর জমির উপর গড়ে উঠছে ফার্ম হাউস। সেখানে থাকবে অত্যাধুনিক পলি হাউসও। পিপিপি মডেলেই গড়ে উঠছে ফার্মটি। ফল ও ফুল চাষের বাণিজ্যিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মাস খানেকের মধ্যেই এসে পৌঁছাবে ট্রপিক্যাল অর্কিড। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সেই অর্কিড থেকে চারা তৈরি করে চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। তাছাড়াও ড্রাগন ফল, মালটা, সিডলেস লেবুর মতো বিদেশি ফলের সঙ্গে আপেল, কুল, আম, পেয়ারার উন্নত প্রজাতির গাছের চারা তৈরি হবে এখানেই। সমস্ত ফুল ও ফলের চারা এখান থেকে বিনামূল্যে পাবেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ব্লকের চাষিরা। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদেশি ফলের চারা বিনামূল্য বিতরণ করা হয়েছে। এই সমস্ত ফলের চাষ করে জেলার চাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান করে তোলাই রাজ্য সরকারের লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।

পরিকাঠামোর কাজ সরেজমিন খতিয়ে দেখতে জলপাইগুড়িতে মোহিতনগর ফার্ম পরিদর্শন করেন রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ডক্টর সুব্রত গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু।
ফার্মের পার্টনার উৎপল ব্যানার্জি বলেন, 'এই ১০ একর জায়গা পড়ে ছিল। সরকার আমাকে এই জায়গা ব্যবহার করতে দিয়েছে। আমরা এখানে গতবছর প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ চারা গাছ উৎপাদন করতে পেরেছি। যা পুরোটাই বিক্রি হয়ে গেছে। এখান থেকেই আমরা ৬২ লক্ষ টাকা রেভিনিউ সরকারকে দিতে পেরেছি। চলতি বছরে আমাদের টার্গেট দ্বিগুণ। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।'

উৎপলবাবু আরও জানান, উত্তরপূর্ব ভারতে ট্রপিক্যাল অর্কিড ফুল ও গাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই চাষের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চাষিরা খুব লাভবান হতে পারবেন।
ডক্টর সুব্রত গুপ্ত বলেন, উত্তরবঙ্গের চাষিরা ফুলচাষে বেশ উৎসাহী। ইতিমধ্যে জারবেরা ফুল চাষে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে এবার ট্রপিক্যাল অর্কিড চাষে দিকে চাষিদের ঝোঁক বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। যা ফুলের বাজারে অন্যতম দামি ফুল। এরজন্য থাইল্যান্ড থেকে খুব ছোট আকারের চারা আনা হবে। সেই গাছ এখানে বড় করে তোলার জন্য বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সেগুলো বড় করা হবে। তারপর সেগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এতে এখানকার কৃষকরা আগামীদিনে আরও লাভবান হবেন।
গরমে পড়তে বসাই দায়, ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে অসুস্থ ছোট্ট ছেলে! কী করল কলকাতা পুলিশ