
শেষ আপডেট: 20 November 2022 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘদিন খারাপ হয়ে পড়ে থাকা রাস্তা সারাইয়ের কাজের সূচনার অনুষ্ঠানে এসে গ্রামবাসীদের গাছ কেটে (Tree Cutting) ফেলার কথা বললেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি! সেকি, কেন? এর গোটা কাহিনী বলতে হলে একটু পিছনের দিকে হাঁটতে হবে। তার আগে বলে রাখা যাক, এই ঘটনাটি জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের।
রাজগঞ্জের ভোলাপাড়া থেকে চাউল হাটি পর্যন্ত এই ৮ কিলোমিটার রাস্তা প্রায় ১০ বছর ধরে খারাপ হয়ে পড়ে আছে। ফি বছর ভোট আসলে নতুন রাস্তা নির্মানের শিলান্যাস হতো, কিন্তু রাস্তা আর তৈরি হতো না। এই নিয়ে বহুবার পথ অবরোধ করেছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারনে রাস্তা নির্মান হয়নি।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোলাপাড়া এলাকায় ভোট প্রচারে এসে রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেত্রী পুর্নিমা রায় মুখ ফস্কে বলে ফেলেছিলেন, "এবার ভোটের পর এই রাস্তা নিশ্চয়ই হবে। যদি না হয় তবে আপনারা আমাকে গাছের সাথে বেঁধে রাখবেন!"
হিংস্র জন্তুর ঘুরে বেড়ানোর ফুটেজ ভাইরাল, ধূপগুড়িতে চিতাবাঘ আতঙ্ক!
এদিকে ভোটের পর যথারীতি রাস্তা আর তৈরি হয়নি। এই অবস্থায় ওই এলাকা দিয়েই যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিলেন পুর্নিমাদেবী। যদিওবা যেতেন গাড়িতে থাকা 'সভাপতি' লেখা বোর্ড উল্টে তারপর যেতেন। এটা উনি নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন।
অবশেষে রবিবার এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। ভোলাপাড়া থেকে চাউলহাটি এলাকার দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার রাস্তা পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান কাজ শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়, জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন, রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা রায়রা।
সেই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুর্নিমা রায় বলেন, "বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমি ওই বক্তব্য রাখার পর কাজ শুরু না হওয়ায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কারন আমার সাথে এই এলাকার যাদেরই দেখা হতো তারা আমাকে রাস্তার জন্য চেপে ধরত। তাই যাতায়াত বন্ধ করে দিই। আমরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম রাস্তার কাজ শুরু না হলে আমরা এই রাস্তায় পা মাড়াব না। অবশেষে আজ কাজ শুরু হয়েছে।" এরপরই তিনি গ্রামবাসীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, "এবার ওই গাছটা আপনারা কেটে ফেলবেন তো?" বলেই হেসে ফেলেন সভাপতি।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কথাকে সমর্থন করে জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, "পুর্নিমা ঠিকই বলেছে। মানুষ এই রাস্তার জন্য প্রায় সময় আমাদের কাছে আসত। ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। যাইহোক আজ থেকে কাজ শুরু হয়ে গেল। এখন আমি এলাকাবাসীদের এই রাস্তার কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।"
এদিকে এতো বছর পর এবার কাজ শুরু করায় খুশি এলাকার মানুষ।