সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং: তিন বছর আগের বাঘ সুমারিতে জানা গেছিল, সুন্দরবনে হাতে ১২ টি বাঘ রয়েছে। ২০০৪ সালেও সুন্দরবনে বাঘ ছিল নয় নয় করেও ৪৪০টি। তাদের সংখ্যা কমতে কমতে এই দশা। দক্ষিণরায়ের দেখা পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার।
সেই সৌভাগ্যই হল হঠাৎ করে। সুন্দরবনের পর্যটকদের ক্যামেরায় বন্দি হল তিন তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি। স্বাভাবিক ভাবেই পর্যটক মহলে খুশির সীমা নেই।

করোনা কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি দশা কাটানোর পরে ভ্রমণ পিপাসী মানুষের দল এই শীতে বেরিয়ে পড়েছেন কাছেপিঠে। সুন্দরবনেও আকর্ষণ বেড়েছে পর্যটকদের। ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের সোঁদামাটির গন্ধ নিতে আর নোনাজলে নৌকাবিহার করতে পর্যটকদের বড় অংশ পৌঁছচ্ছেন প্রায়ই।

গত ৮ জানুয়ারি এমনই একটি পর্যটকের দল কলকাতা থেকে বেড়াতে যান। ২২ জনের দলটি লঞ্চে করে সোনাখালি জেটিঘাট থেকে ওঠেছিল সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য। পরের দিন বিকালে দোঁ-বাকী জঙ্গলের নদীতে লঞ্চে যাওয়ার সময়ে তাঁরা দেখতে পান ৩টি বাঘ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এই ৩টি বাঘের মধ্যে ২টি বাঘ বসে ছিল নদী লাগোয়া জঙ্গলের ধারে আর একটি বাঘ নদীতে সাঁতার কেটে জঙ্গলে ঢুকে যায়।

এমন দৃশ্য দেখেই পর্যটকরা দ্রুত ক্যামেরায় বন্দি করে ফেলেন। সুন্দরবনে বাঘ দেখা গেলেও, এমন একসঙ্গে তিনটি বাঘ দেখার বিরল দৃশ্য আগে কোনও পর্যটক দেখেছেন কিনা, তা সন্দেহ।

একটা সময় প্রবাদ ছিল, বাঘের দেখা আর সাপের কাটা-- এই দুই কপালে না থাকলে হয় না সুন্দরবনে। তবে বর্তমানে বিষয়টি অনেকটাই বদলেছে। সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বাঘ যে একেবারেই দেখতে পান না তা নয়। তবে এবার একেবারে তিন-তিনটে।

পর্যটক তপন সাহা বলেন “সুন্দরবনের মানুষ হয়ে সুন্দরবনে তিনবার গেছি। কোনওবারই ভাগ্য প্রসন্ন ছিল না। ফলে বাঘ দেখা হয়নি। এবার আবার শীতের মরশুমে সুন্দরবন যাব। আশা করি এবার অবশ্যই বাঘের দেখা পাবো। বিফল হবে না সুন্দরবন ভ্রমণ।”
