
শেষ আপডেট: 6 January 2020 07:25
বাঘের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই গ্রামের লোকজনকে সতর্ক করতে শুরু করে দিয়েছেন বন দফতরের কর্মীরা ও বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে সাধারণত সন্ধ্যার দিকে বাঘ বেরোয়, তারা গ্রামে আসে খাবারের সন্ধানে। বন দফতরের পরামর্শ যাতে এই সময় কেউ বাড়ির বাইরে না বেরোন। যাঁরা পশুপালন করেন তাঁরা যাতে পশুদের নিয়ে বনের আশপাশে চরাতে না যান সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুদের সামলে রাখার ব্যাপারে বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় ঘুরে দেখে বিশেষজ্ঞরা ঠিক করবেন খাঁচাগুলি কোথায় পাতা হবে। ট্র্যাপ ক্যামেরাও আনা হয়েছে। বাঘের সন্ধান পেতে সেগুলিও ব্যবহার করা হবে।
রবিবার সকালে বিনপুর থানার কাঁকো গ্রামপঞ্চায়েতের মোহনপুর গ্রামের মালাবতী জঙ্গলের পাশের একটি সর্ষে খেতে অজ্ঞাত এক প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখতে পান গ্রামবাসীরা। তাঁরা অনুমান করেন, পায়ের ছাপটি বাঘের। তার পরেই মোহনপুরের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে, জঙ্গল থেকে বাঘ এসে ঢুকে পড়েছে এলাকায়।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোহনপুরের সর্ষে খেতের আশপাশে স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে এসে পৌঁছয় বন দফতরের কর্মীরা। বিনপুর থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হলেইচি গিয়ে পৌঁছন সেখানে। অজ্ঞাত প্রাণীর পায়ের ছাপটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন বন দফতরের কর্মীরা। এক আগে ২০১৮ সালে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ে। লালগড়ে পায়ের ছাপ পাওয়ার পরে প্রাথমিক ভাবে পায়ের ছাপটিকে বাঘের পায়ের ছাপ বলে গুরুত্ব দেয়নি বন দফতর। এর পরে জঙ্গলের মধ্যে বুনো শুয়োরের হাড়গোড় পাওয়ার পরে লালগড়ের জঙ্গলে বন দফতরের তরফে বসানো হয়েছিল ট্র্যাপ ক্যামেরা। তাতে বাঘের ছবি ধরা পড়তে লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ ধরার জন্য বসানো হয়েছিল খাঁচাও। অবশেষে আদিবাসীদের শিকার উৎসবে বলি হয় বাঘটি।