দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ফের পোস্টার ঘিরে শোরগোল ডোমজুড়ে। তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী, বর্তমান বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল ডোমজুড়ের একাধিক এলাকায়।
মঙ্গলবার এই কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘‘কথায় কথায় দিল্লি বা ৩৫৬ ধারার কথা বললে বাংলার মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত একটা সরকার এসেছে। এখন ইয়াস বিধ্বস্ত বাংলার মানুষের পাশে সকলের থাকা উচিত।’’
এই ট্যুইট নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। বুধবার সকাল সকালই ডোমজুড়ের সলপ বাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগাতে শুরু করেন। ওইসব পোস্টারে লেখা আছে ‘ডোমজুড়ে গদ্দারদের কোনও ঠাঁই নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাকে যেন তৃণমূল আর ফেরানো না হয়।’
উল্লেখ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ডোমজুড় কেন্দ্রে একাধিকবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে এবং বিপক্ষে পোস্টার এবং ফ্লেক্স লাগানো হয়। ভোটে পরাজিত হয়েছেন রাজীব। তারপরেই ট্যুইট করে তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোয় অন্য ইঙ্গিত পাচ্ছেন শাসকদলের নেতারা। হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সদরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, ‘‘দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। এখন তিনি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দলে মাথা ঢোকানোর চেষ্টা করছে। অনেক সময় শয়তান চার্চে গিয়েও ভালো ভালো কথা বলে। রাজীববাবু যে অভিনয় করছেন তাতে উৎপল দত্ত বেঁচে থাকলে তিনিও লজ্জা পেতেন।’’
তৃণমূল ছাত্রপরিষদের কার্যকরী সভাপতি ভিকি জয়সওয়াল বলেন, ‘‘মন্ত্রী থাকার সময় প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নামে বাজে কথা বলেছেন। তাই তাকে যেন আর দলে না নেওয়া হয়।’’
এই ব্যাপারে রাজীববাবুর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।