ট্রেন লেট করায় ফিরল জীবন, আত্মহত্যার আগেই গৃহবধূকে বাঁচিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলেন এক গৃহবধূ। ট্রেন দেরিতে আসায় ও গ্রামের লোকজন তাঁকে দেখে ফেলায় শেষ মুহূর্তে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি
শেষ আপডেট: 14 January 2020 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলেন এক গৃহবধূ। ট্রেন দেরিতে আসায় ও গ্রামের লোকজন তাঁকে দেখে ফেলায় শেষ মুহূর্তে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন।
কাঁথির মারিশদা থানা এলাকার দইসাইয়ে সোমবার বিকালে শান্তনু খুঁটিয়া নামে এক ব্যক্তি দেখেন যে গ্রামেরই এক গৃহবধূ রেল লাইনের উপরে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। তখনই তিনি সেখানে গিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে পারেন যে ওই গৃহবধূর নাম মামণি মণ্ডল। পাশের হৈবতপুরে তাঁর বাড়ি। ফোন করে গ্রামে খবর দেন ওই যুবক। ডেকে পাঠানো হয় মামণির স্বামী ভবশঙ্কর মণ্ডলকে।
মামণির অভিযোগ, নিয়মিত মদ খেয়ে এসে কোনও না কোনও ছুতোয় তাঁকে মারধর করত ভবশঙ্কর, তাঁর চরিত্র নিয়ে কথা বলত এমনকি গ্রামের লোকজনের কাছেও তাঁর নামে কুৎসা রটাত। ঘটনার দিন ভবশঙ্কর অভিযোগ তোলে যে তার মাকে ঠিকমতো দেখভাল করছেন না মামণি। অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই এই ছুতোয় সে মামণিকে মারধর করত। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছে বলে বেরিয়ে প্রায়ই মদ খেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে স্ত্রীর উপরে সে চড়াও হত।

গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন যে এনিয়ে বহু বার গ্রামে সালিসি হয়েছে, কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ওই দম্পতির একটি সাত বছরের মেয়ে ও বছর দশেকের ছেলে আছে। বারো বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
গ্রামের লোক সারারাত ধরে ওই দম্পতিকে বোঝান। ভোরবেলায় তাঁরা বাড়িতে ফেরেন। মামণির অভিজ্ঞতা – এমন ভাবে আগেও বোঝানো হয়েছে কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এবার অবশ্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী যুবক তাঁদের দিকে নজর রাখবে। দেখবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে কোনও অশান্তি-গণ্ডগোল হচ্ছে কিনা।
মামণি চান, তাঁর স্বামী মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়ে সংসারে মন দিক, তাঁর উপরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার বন্ধ করুক। ভবশঙ্কর অভিযোগ করেছেন যে মাননি মিথ্যা বলছেন, তাঁর মা অসুস্থ হলেও স্ত্রী ঠিকমতো তাঁর সেবাযত্ন করেন না। আপাতত তাঁরা বাড়িতে ফিরেছেন। গ্রামের লোক দুষছেন ভবশঙ্করকেই কারণ ব্যাপারটা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মামণি।
ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন যে কোনও পরিবারে সমস্যা হলে ভুক্তভোগীরা যেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন। হতাশা থেকে কেউ যেন চরম সিদ্ধান্ত না নেন।