
শেষ আপডেট: 8 January 2019 02:37
মঙ্গল-বুধ, ৮ এবং ৯ জানুয়ারি, দেশ জুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে বিভিন্ন বাম-সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়ন এবং ব্যাঙ্ক। উল্টো দিকে, বনধের দিনগুলিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বাম ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সিটু জানিয়েছে, রাজ্য সরকার বনধ ব্যর্থ করার চেষ্টা করলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শিয়ালদহ-রানাঘাট ও বারাসত-বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল আংশিক বিঘ্নিত বলে জানা গিয়েছে এ দিন সকাল থেকে। ভোর ৫:১০ নাগাদ সোদপুর-আগরপাড়া এবং ৫:৫০ নাগাদ কল্যাণী-কাঁচড়াপাড়ার মাঝখানে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন বনধ সমর্থকেরা। বারাসত-বনগাঁ শাখায় ভোর ৫:৪৫ থেকে মসলন্দপুরে যাওয়ার ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। হাওড়া-বর্ধমান মেন শাখাতেও পুরোপুরি বন্ধ ট্রেন চলাচল। বিভিন্ন স্টেশনে চলছে বিক্ষোভ-অবরোধ।
এ দিকে ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ বনধ সমর্থকেরা দু'টি সরকারি বাসে ঢিল ছোড়ে। যাদবপুর এবং গড়িয়া রথতলা অঞ্চলের এই দু'টি ঘটনায় বাস দু'টির কাচ ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। কলেজ স্ট্রিট-সহ বেশ কিছু জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ জারি রাখার চেষ্টা করেছেন বনধ সমর্থকেরা। হাওড়া পরবর্তী গঙ্গা-সংলগ্ন এলাকায় বন্ধ রয়েছে সমস্ত কলকারখানা।দমদম মোতিঝিলে সিপিএম তৃণমূল সংঘর্ষে আহত বেশ কয়েক জন।
এখনও পর্যন্ত বনধে ভালই সাড়া পড়েছে জলপাইগুড়িতে। ঝান্ডা হাতে জলপাইগুড়ির রাস্তায় লরি আটকাতে দেখা গেছে।বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, স্কুল, ডাকঘর। রাস্তায় কিছু গাড়ি চললেও, লোকজনের সংখ্যা বেশ কম। মাথায় হেলমেট পরে সরকারি বাস চালাচ্ছেন চালকেরা। কিন্তু বাসে যাত্রী নেই। ডুয়ার্সের ধূপগুড়ি ও বানারহাট এলাকায় বনধ সমর্থকদের পতাকা, প্ল্যাকার্ড নিয়ে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
দেখে নিন সারা রাজ্যে বনধের চালচিত্র।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/1992237067559048/
এখনও পর্যন্ত আগাম ছুটি ঘোষিত হয়নি শহরের স্কুলগুলিতে। সিটু নেতা সুভাষ মুখোপাধ্যায় অভিভাবকদের কাছে আবেদন করেছেন, বাচ্চাদের স্কুলে না পাঠাতে। তবে সেই আবেদনে কতটা সাড়া মিলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও বনধের খবর আসছে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে জড়ো হবেন প্রায় ২৫ হাজার বনধ সমর্থক। মহারাষ্ট্রের ৩৫টি জেলায় দফায় দফায় চলবে একই ধরনের সমাবেশ।
তবে বনধের জেরে জনজীবন ব্যাহত করার কোনও রকম চেষ্টা হলে তা কড়া হাতে দমনের নির্দেশ আছে পুলিশের উপরেও। লালবাজার সূত্রের খবর, তিন হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন রাস্তায়। টহলদারির তত্ত্বাবধানে থাকবেন কুড়ি জন পুলিশকর্তা।
বেলার দিকে অশান্তি বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় ভোর থেকেই বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছেন বহু বিমানযাত্রী।