শেষ আপডেট: 26 November 2019 13:56
টোটোপাড়ার প্রবেশপথ[/caption]
গুটখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর সুপারি কিনতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে মাথায় হাত পড়েছে টোটো সম্প্রদায়ের বহু পরিবারের। গুটখার উৎপাদন কমে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমেছে। টোটোপাড়ার বাসিন্দা ভবেশ টোটো বলেন, “টোটোপাড়ার প্রত্যেক পরিবারের তিন থেকে চার বিঘা করে সুপারির বাগান রয়েছে। সেই সুপারির বাগানের সুপারি বিক্রি করে প্রতি বছরই আমরা হাতে পেতাম থোক টাকা। এখন তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে কেউই সুপারি কিনতে চাইছেন না। গাছের সুপারির দামই করতে চাইছেন না সুপারির পাইকাররা। অনেকে সুপারি বিক্রি করবে বলে মহাজনদের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সুপারি বিক্রি হচ্ছে না। এর ফলে টোটোপাড়ার অন্যতম রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।”
বিষয়টি শুনে আলিপুরদুয়ার জেলা অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগের জেলা আধিকারিক নির্মাল্য ঘরামি বলেন, “টোটো সম্প্রদায় থেকে এই অসুবিধার কথা সম্মিলিত ভাবে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। শুধু অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগই নয়, কৃষি, শিল্প, মৎস্য এমনকি প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ থেকেও নানা ধরনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”
আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের শেষ প্রান্তে ভুটান সীমান্তে এক চিলতে পাহাড়ি গ্রামে টোটোদের বাস। ভারতে একমাত্র আলিপুরদুয়ারের টোটোপাড়াতেই টোটো জনজাতির দেখা মেলে। নিরাকার ভগবানে বিশ্বাসী টোটো সম্প্রদায়ের মানুষজন বরাবরই নৃতত্ত্ব গবেষণার অন্যতম বিষয়। তাই টোটোপাড়া মানেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি বড় আকর্ষণ।
বর্তমানে টোটোপাড়ায় টোটো জনজাতির ১৫৮৫ জন মানুষ বসবাস করেন। এখনও টোটোজাতির মধ্যে পুরুষের আধিক্য বেশি। টোটোপাড়ায় ৮২২ জন পুরুষ ও ৭৬৩ জন মহিলার বাস। কয়েক দশক তাঁদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তা জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।