দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথ দেখিয়েছে ইয়াস। তারপর থেকেই একের পর এক প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাক্ষী থাকছে বাংলা। বিশেষত, আগে কখনও যে জিনিস এত ঘন ঘন দেখা যায়নি, এখন তাই হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই আচমকা তাণ্ডব চালাচ্ছে টর্নেডো। বৃহস্পতিবার আবার দেখা গেল সেই ছবি।
এদিন সাগর অঞ্চলের মুড়িগঙ্গা নদীতে হঠাৎই টর্নেডো তৈরি হয়। যার জেরে নদীর জল ফুলে ফেঁপে ওঠে। প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় জল উঠে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও দেখতে যতটা ভয়ঙ্কর, এই টর্নেডো বাস্তবে সেই রূপ নেয়নি। কারণ স্থলভাগে ঢুকে পড়ার আগেই শক্তিক্ষয় হয়েছে তার।
সাগরের এই টর্নেডো স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে হঠাৎই নদীর জলের মধ্যে ঘূর্ণি দেখতে পান তাঁরা। সেখান থেকেই জল ক্রমে উপরের দিকে উঠতে থাকে। প্রায় কুড়ি ফুট উপরে জল উঠেছিল বলে খবর। এরপর নাকি সেই ঘূর্ণায়মান জল এগিয়ে আসতে থাকে পাড়ের দিকে। সবমিলিয়ে মোট আধঘণ্টা জলে টর্নেডো স্থায়ী হয়েছিল।
পাড়ে এসে পৌঁছনোর আগেই আবার জলেই মিলিয়ে যায় ঘূর্ণি। এলাকাবাসী জানাচ্ছেন এমন ঘটনা তাঁদের অঞ্চলে আগে আর কখনও হয়নি। স্বভাবতই আতঙ্কিত তাঁরা। আবার এমন হবে কিনা সেই চিন্তাও মাথা থেকে যাচ্ছে না।
কেন হঠাৎ হঠাৎ এই রূপ নিচ্ছে প্রকৃতি। আবহাওয়াবিদদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকার বাতাস গরম হয়ে গেলে তা উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। তখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ইদানীং স্থানীয় টর্নেডোর সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা চিন্তায় রাখছে পরিবেশবিদদের।
ইয়াসের পর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক অঞ্চলে স্থানীয় টর্নেডো দেখা গিয়েছিল। জলের উপর নয়, ডাঙাতেই তাণ্ডব চালিয়েছিল সেগুলি। কয়েক মিনিটের মধ্যে টর্নেডোতে তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা।
এদিকে সূর্যগ্রহণ, ভরা কোটালের জেরে এমনিতেই আবহাওয়ার খুব একটা ইতিবাচক পূর্বাভাস নেই। শুক্রবার নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস।