
শেষ আপডেট: 16 February 2021 15:41
পরিবারের অতি ইতিহাস বলছে, আজ থেকে ৫০০ বছর আগে ব্যবসায়িক কারণে ছাপরা থেকে এসে মহাশোল, নদাশুলি ও সূর্যপুর নামে তিনটি মৌজা সেই সময়ের জমিদারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মহাশোলে বসতি গড়েন সৈজন সিংহ। ব্যবসা ও চাষবাস করে দিন কাটাতেন। আর অবসর বিনোদনের জন্য এই গ্রামেই গড়েছিলেন একটি আটচালা। এই আটচালাতে বসেই বাড়ির কর্তারা গাল গল্পে মশগুল হতেন। বংশ পরম্পরায় এই ধারা বজায় ছিল।
এর পর সৈজন সিংহের নাতি প্রয়াত ঈশান সিংহ এক মাঘের শীতের সন্ধ্যায় বাড়ির কর্তাদের নিয়ে আটচালায় বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় অবিবাহিত দুজন মেয়েকে আটচালার পাশে বসে পুজো করতে দেখেন। আটচালায় বসে থাকা ব্যক্তিরা ছুটে গিয়ে তাদের কাছে যেতে না যেতেই সেই দুই মেয়ে চোখের নিমেষে উধাও হয়ে যায়৷ অনেক খোঁজাখুজি করেও আর তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কি ঘটলো এই চিন্তা করতে করতেই সকলেই রাতে বাড়ি ফিরে আসেন।
রাতে সকলেই ঘুমিয়ে পড়লেও ঈশান সিংহের চোখে ঘুম ছিলনা এদিন। তিনি সেই দুটি মেয়ের কথা ভাবতে থাকেন। সেই রাতে শেষ প্রহরে তন্দ্রাচ্ছন্ন হন ঈশান সিংহের৷ সেই অবস্থায় ওই দুই মেয়েকে স্বপ্নে ফের দেখতে পান তিনি। তাঁকে তাঁরা বলেন, আমাদের দুই বোনের পুজো কর, মঙ্গল হবে বংশপরম্পরায়। এই বলেই মেয়ে দুটি ফের উধাও হতেই ঈশান সিংহের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখেন কোথাও কেউ নেই। স্বপ্নে দেখা সেই দুটি মেয়ের নির্দেশ মতো পুজো করার মনস্থির করেন। বাড়িতে মিস্ত্রি ডেকে খড় আর বাঁশ দিয়ে মন্দির তৈরি করে একই সঙ্গে সরস্বতী ও লক্ষ্মীর পুজো শুরু করেন।
সেই থেকে নিয়ম আজও পালন করে আসছে সিংহ পরিবারে। তখন পুজো হতো তিন দিন। পুজো শুরু হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পরে পরিবারের সদস্যরা ঠিক করেন পুজো উপলক্ষে আয়োজন করতে হবে হরিনাম সংকীর্তন। সেই মতো চব্বিশ প্রহর সংকীর্তন হয়ে আসছে।
সিংহ বাড়ির পুজোর মূল আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন সিংহ, দুলাল চন্দ্র সিংহ, নিরঞ্জন সিংহ, নেপাল সিংহরা জানান বংশানুক্রমিক এই পুজো হয়ে আসছে। বাড়ির কর্তাদের নিয়মনীতি মেনেই পুজো করেন। তবে তখনকার সেই আয়োজনের সঙ্গে এখন বিস্তর ফারাক হয়েছে৷ হ্যাজাক লাইটের পরিবর্তে এসেছে রকমারী আলো, কাঁচা মন্দিরের পরিবর্তে গড়ে উঠেছে পাকা মন্দির, পাকা হয়েছে আটচালা। বাড়ির মহিলাদের হাতে বানানো নাড়ু দিয়ে পুজো হয়ে আসছে। সিংহ পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য আভারাণী সিংহ বলেন, " প্রায় ৬০ বছর ধরে আমি শাশুড়ির কাছে এই নাড়ু করা শিখেছিলাম শুধু মাত্র এই পুজোর জন্য। আজও সেই ধারা রয়েছে৷ এই নাড়ু দিয়েই আমরা আগত আত্মীয় সজনদের অভ্যর্থনা জানাই"।