
শেষ আপডেট: 24 September 2019 11:45
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর ও স্থানীয় গাড়ি চালকেরা৷ তবে তাতে সরকারি সিদ্ধান্তের বদল হয়নি। এরই মধ্যে পর্যটক পিছু বাড়তি পঞ্চাশ টাকার টিকিটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে, পর্যটক কমে যাওয়ার উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা৷
তাঁদের বক্তব্য, এত দিন কোনও টাকা ছাড়াই টাইগার হিল দেখতে যেতেন পর্যটকেরা কিন্তু এ বার অনেক পর্যটকই আলাদা করে টাকা দিতে চাইবেন না। ফলে টিকিটের টাকাও গাড়ি চালকদের দিতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ট্যুর অপারেটরদের একাংশ।
যদিও বন দফতরের তরফে দাবি করা হয়েছে, যে টাকা পর্যটকদের থেকে সংগ্রহ করা হবে, তা স্থানীয় বনবস্তি ও জঙ্গলকে রক্ষার কাজেই ব্যবহার করা হবে। সারা বছর বন্য প্রাণীদেরআক্রমণে বনবস্তির বেশ ক্ষতি হয় সারা বছর ধরেই। ফসল নষ্ট হয়। এছাড়া সারা বছর সে রকম কাজ থাকে না বনবস্তিবাসীর। ক্ষতিপূরণ হিসেবে সংগৃহীত সেই টাকার কিছু অংশ তাঁদের দেওয়া হবে।
তবে এসবে চিঁড়ে ভিজছে না। বন দফতরের আচমকা এই সিদ্ধান্তে পর্যটনে আঘাত আসার আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা। তাঁদের দাবি, প্রশাসন ও বন দফতরের আধিকারিকদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত এই সিদ্ধান্ত। তাঁদের অভিযোগ, পুজোর মরসুমের বুকিং মার্চ-এপ্রিল মাসেই নেওয়া হয়ে যায়। পর্যটকেরা প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে দেন। এখন নতুন টাকা দেওয়ার নিয়ম লাগু করায়, ট্যুর অপারেটরদের পকেট থেকে টিকিটের টাকা দিতে হবে।
বন দফতরের পাল্টা দাবি, টাইগার হিল সিঞ্চেল ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির অন্তর্গত। ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন ধারায় যে কোনও বনাঞ্চলে প্রবেশ মূল্য লাগু করা যেতে পারে আইনত। এ ছাড়া টাইগার হিল সংলগ্ন ৩১টি বনবস্তি রয়েছে। তাদের উন্নয়নের কথা ভেবেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে জন্য টাইগার হিল সংলগ্ন এলাকায় বন দফতরের তরফে একটি টিকিট কাউন্টারও খোলা হয়েছে।
টাইগার হিল দেখতে যাওয়ার টিকিট পাওয়া যাবে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে কাউন্টার খোলা থাকবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। ঝঞ্ঝাট এড়িয়ে নিরাপদে সূর্যোদয়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে হলে অগ্রিম টিকিট বুক করার সুবিধাও থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যপ্রাণ বিভাগ।
