
শেষ আপডেট: 21 July 2022 06:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে এসে গেল আরও একটা ২১ জুলাই (21 July)। বছর ঘুরে যায়, কিন্তু কেউ খোঁজ রাখে না সহেন্দ্র দাসের স্ত্রী-ছেলের। ৭ বছর আগের এক ২১ জুলাই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল (Death) একনিষ্ঠ এই মমতা-ভক্তের। পরিবারের একমাত্র রোজগেরের মৃত্যুর পর অকূল পাথারে পড়েছে তাঁর পরিবার। দরমার ঘরে বসে শুধুই চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কীই বা করার আছে তাঁদের! সাত বছর কেটে গেলেও সাহায্য তো দূর, স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেটটুকুও (Death certificate) হাতে পাননি মৃত তৃণমূল কর্মীর (TMC worker) স্ত্রী।
বছর সাতেক আগের এক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে কলকাতা এসেছিলেন কোচবিহারের বক্সিরহাটের তৃণমূল সমর্থক সহেন্দ্র দাস। শহীদ দিবসের জমায়েত থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার সময় রামপুরহাট স্টেশনের কাছে ল্যাম্পপোস্টে মাথা ঠুকে মৃত্যু হয় সহেন্দ্রবাবুর।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন সহেন্দ্রবাবুই। তাঁর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে তাঁর পরিবার। যদিও সেই সময় কোচবিহারের দাপুটে তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নাকি সহেন্দ্রর দেহ নিয়ে বাড়িতে এসে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মৃত সহেন্দ্র দাসের স্ত্রীর দাবি তাঁদের সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রবি ঘোষ। কিন্তু এতদিনেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি কেউ। ৭ বছরেও পাননি স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট!
এমনকী বাবার মৃত্যুর ৯মাস পরেই মারা যায় তাঁর বড় ছেলে। একের পর এক বিপর্যয়ে বন্ধ হয়ে যায় সহেন্দ্রবাবুর ছোট ছেলে সুরজিৎ দাসের পড়াশোনা। বাধ্য হয়ে মাধ্যমিকের পরেই দিনমজুরের কাজে লেগে পড়ে সে। আপাতত এভাবেই চলছে মৃত তৃণমূলকর্মীর সংসার। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়ি গিয়ে শুধুই অপমান জুটেছে বলে দাবি সহেন্দ্র দাসের ভাইয়ের।
যদিও সমস্ত অভিযোগ কার্যত অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, প্রতিশ্রুতি মতো পরিবারটিকে সব সাহায্যই করা হয়েছিল দলের তরফ থেকে। তার খতিয়ানও দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই উপলক্ষে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের স্লোগানে, ভিড়ে মুখরিত হবে কল্লোলিনী কলকাতা। তবে এই মহাযজ্ঞের বিপুল আয়োজনে হয়তো এবারেও উপেক্ষিত থেকে যাবেন সহেন্দ্র দাসের পরিবার।
অনুব্রতর গাড়ির মাথায় লালবাতি কেন, নবান্নের রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট