
শেষ আপডেট: 9 March 2024 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। রবিবার ব্রিগেডে তৃণমূলের জনগর্জন। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
দলীয় সূত্রের খবর, জমায়েতের নিরিখে অতীতের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে এবারের সমাবেশ। দর্শকাসনে থাকা দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে আরও বেশি জনসংযোগের লক্ষ্যেই ব্রিগেডে এই প্রথমবার দেখা মিলবে র্যাম্পের! যে ব়্যাম্পে হেঁটে মাঠমাঠে পৌঁছে যাবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
সূত্রের খবর, মাঝমাঠ থেকেই 'বিরোধীদের বিসর্জনের গর্জন' তুলবেন মমতা-অভিষেক।
শুধু দক্ষিণ ভারতের ধাঁচে মূল মঞ্চ কিংবা ব়্যাম্প তৈরি নয়, এবারে শাসকদলের ব্রিগেডের ক্যাপশনেও রয়েছে বিশেষ চমক। শনিবার ব্রিগেডে গিয়ে দেখা গেল, মূল মঞ্চের ক্যাপশনে লেখা, 'জনগণের গর্জন বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন, তৃণমূলই করবে অধিকার অর্জন'।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিরোধী শব্দবন্ধটি গেরুয়া রঙে লেখা হয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট, এবারের ব্রিগেডে শাসকদলের প্রধান টার্গেট বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যে চার চারটি সভা সেরে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সন্দেশখালি ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে সরব হয়েছেন। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে যে তৃণমূল এর জবাব দেবে, তার ইঙ্গিত সম্প্রতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নারী দিবসের প্রাক্কালে ডোরিনা ক্রসিংয়ের সভা থেকে মমতা বলেছিলেন, "ব্রিগেডে মানুষের ভয়ঙ্কর গর্জন হবে।"
ব়্যাম্পে হেঁটে মাঝমাঠ থেকে বিরোধীদের বিসর্জনের গর্জন তুলবেন মমতা-অভিষেক#TMCBrigade #MamataBanerjee #AbhishekBanerjee #LokSabhaElections2024 pic.twitter.com/fWrM1vgPql
— The Wall (@TheWallTweets) March 9, 2024
তারও আগে মোদীর কৃষ্ণনগরের সভার পর মমতা বলেছিলেন, 'দল এর জবাব দেবে।' স্বভাবতই, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী এবং অভিষেক কী বলেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সব মহলের।
মূল মঞ্চ থেকে ৩৪০ ফুটের ব়্যাম্প সোজা সামনে এগিয়ে গিয়েছে। বিমানের পেটে যেমন পাখনা থাকে, অনেকটা সেভাবেই ব়্যাম্পের ২০০ ফুট থেকে ডান দিক এবং বাম দিকে ১৫০ ফুটের দীর্ঘ দুটি উইংস করা হয়েছে। এই ব়্য়াম্প বরাবরই দর্শকাসনে থাকা জনতার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন মমতা-অভিষেক।
রবিবার সকাল ১১ টা থেকে শুরু হবে সমাবেশ। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই সমাবেশ থেকে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসকদল।
মূল মঞ্চটি হচ্ছে ৭২ ফুট বাই ২০ ফুটের। এখানে মমতা, অভিষেক ছাড়াও দলের সাংসদ এবং শীর্ষ নেতৃত্ব থাকবেন। এছাড়াও এই মঞ্চে বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজনেরও বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার মধ্যে লোকসভার সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীও থাকতে পারেন। বস্তুত, এই মঞ্চ থেকেই দলনেত্রী রাজ্যের ৪২টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেন।
মূল মঞ্চের দু' পাশে ৬৮/২৪ ফুটের আরও দুটি মঞ্চ থাকছে। একটি মঞ্চে দলের এরাজ্যের বিধায়করা থাকবেন। অন্যটিতে মেঘালয়, অসম, ত্রিপুরা বা উত্তরপ্রদেশের দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অর্থাৎ কলকাতায় ব্রিগেড সমাবেশের আয়োজন হলেও এর রেশ সারা দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাইছে শাসকদল। ব়্যাম্প-সহ সবকটি মঞ্চ মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন নেতৃত্ব স্টেজে থাকবেন, যা অতীতে কখনও হয়নি বলে নেতৃত্বর দাবি।
ব্রিগেডকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজ্যের দূর দুরান্ত থেকে কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। নিউটাউনের ইকোপার্ক, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও ব্রিগেডকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের জন্য পার্টির তরফে ডিমের ঝোল, ভাত এবং ডাল-সবজির আয়োজন করা হয়েছে।