দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় থেকে রাজ্যসভার দুটি আসন এখন শূন্য রয়েছে। তার মধ্যে একটি আসনে ভোট হবে ৯ অগস্ট। তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে খবর, ওই আসনে এ বার প্রার্থী হতে পারেন বাংলার বাইরের কোনও নেতা। এমন কোনও নেতা যাঁর সর্বভারতীয় রাজনীতিতে উচ্চতা রয়েছে।
বাংলায় বিধানসভা ভোট ঘোষণার ঠিক আগে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলা থেকে রাজ্যসভায় সেই আসনটি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ মানস ভুইঞাঁ বিধানসভা ভোটে জিতে রাজ্যে মন্ত্রী হয়েছেন। তিনিও রাজ্যসভার সদস্য পদ ছেড়েছেন। সেই কারণে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় মোট দুটি আসন শূন্য রয়েছে। তবে আপাতত একটি আসনের জন্য ভোট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দীনেশ ত্রিবেদী ইস্তফা দেওয়া যে আসনটি শূন্য হয়েছে তাতে ভোট হবে ৯ অগস্ট।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কাকে প্রার্থী করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনিতে রাজ্যসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখেন। কিছু নেতার অনিবার্য ভাবে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তা ব্যতিরেকে দলের মধ্যেও কেউ জানতে পারেন না কাকে প্রার্থী করতে চলেছেন দিদি। যেমন শান্তনু সেন, শান্তা ছেত্রী, আবির বিশ্বাস, শুভাশিস চক্রবর্তীদের রাজ্যসভায় মনোনীত করার সময়ে আগাম কেউই জানতে পারেননি।
তবে তৃণমূলের শীর্ষ সারির একাধিক নেতার কথায়, এ বারও একটা অনিবার্যতা রয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফার পর সেই শূন্য পদে প্রার্থী করা হতে পারে প্রাক্তন বিজেপি নেতা ও বাজপেয়ী জমানার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহাকে। যশবন্ত ঝাড়খণ্ডের নেতা। নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করে তিনি বিজেপি ছেড়েছিলেন। এ বার বিধানসভা ভোটের সময়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তার পর ভোট চলাকালীন ধারাবাহিক ভাবে তৃণমূলের হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রচারও করেন।
রাজ্যসভার ওই একমাত্র আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌত্যে নেমেছেন আরও এক মোদী বিরোধী বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি হলেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
এবার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভা সাংসদ জয়া বচ্চনও। জয়া রাজ্যসভায় মোদী বিরোধী অন্যতম স্বর। তিন বছর আগে এক সময়ে এ প্রচারও শোনা গিয়েছিল যে তৃণমূল থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেতে পারেন জয়া। তবে সেবারও সমাজবাদী পার্টি থেকে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। রাজ্যসভায় তাঁর আরও ৩ বছর মেয়াদ বাকি রয়েছে।
তবে উত্তরপ্রদেশে সপার যা সংখ্যার তাকত, তা আগামী বছর বিধানসভা ভোটে না বাড়লে রাজ্যসভায় জয়া বচ্চনদের ফের মনোনয়ন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিধানসভা ভোটে শুধু তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেননি জয়া, রাজ্যসভার মধ্যে কক্ষ সমন্বয়েও তৃণমূলের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়া করে চলছেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য ২২ জুলাই নোটিফিকেশন হবে। তার পরই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন দিদি।