দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বঘোষণা মত বুধবার দৈনিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেসের সাপ্তাহিক মুখপত্র জাগো বাংলা। ২০০৫ সাল থেকে জাগো বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়ে আসছিল।
করোনার কারণে আপাতত দৈনিক জাগো বাংলা ই-পেপার হিসেবে প্রকাশিত হবে। নিউজ প্রিন্টের ছাপা কাগজ প্রকাশিত হবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে।
এই দিন নতুন চেহারায় প্রকাশিত জাগো বাংলা দেখে অনেকেই খানিকটা বিস্মিত হয়েছেন পত্রিকার লাল রঙের ব্যবহার দেখে। কাগজের মাস্ট হেডে জাগো বাংলা শব্দটি পুরোটাই লাল রঙের লেখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পাতায় বিভিন্ন সেগমেন্টের শিরোনামে আছে যথেষ্ট পরিমাণে লাল রঙের ব্যবহার। এমনকি লাল রঙে বাংলার একটি ম্যাপও চেপেছে জাগোবাংলা।
চোখে পড়ার মতো লাল রংয়ের এমন ব্যবহারের ব্যাখ্যা তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। যদিও মমতার রাজনৈতিক উত্থান পর্বে লাল রং, লাল শব্দটি ছিল পরিত্যাজ্য। সিপিএমের সন্ত্রাসের নিয়ে বলতে গিয়ে বারেবারেই বলতেন লাল সন্ত্রাস শব্দটি। আবার তৃণমূলের সরকার গঠনের পর থেকেই দল ও সরকারের প্রতীকী রং হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে নীল-সাদা। সেই দলের মুখপত্রে লাল রংয়ের বহুল ব্যবহার নিয়ে দলের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি। নেতারা সকলেই দলের একুশের সভা নিয়ে ব্যস্ত।
তবে মনে করা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন বার্তা দিতে, যে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খাতায়-কলমে একটি ডানপন্থী দলের নেত্রী হলেও তার ভাবনা, পথচলা সবকিছুই বামপন্থী ঘরানায় জারিত। তাঁর সরকারের কর্মসূচির মধ্যেও আছে বামপন্থী ভাবনা চিন্তার ছাপ।
আগামী দিনে মমতা নিজেকে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তার দল সরকারিভাবে ঘোষণা না করলেও নানা সিদ্ধান্তে বুঝিয়ে দিচ্ছে আগামী দিনে তারা দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চায় দিদিকে। সেই লক্ষ্য পূরণে সম্ভবত রাজনৈতিক উদারতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরতেই দলীয় মুখপাত্র খুব সচেতনভাবেই লাল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে প্রকৃত ব্যাখ্যা জানা যাবে দলীয় নেতারা মুখ খুললে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার ব্যাখ্যা এর সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবনাচিন্তার কোনও সম্পর্ক নেই। এমন ভাবে রং বাছাই করা হয়েছে যাতে ই পেপার কিংবা পরবর্তী সময় নিউজ প্রিন্টে ছাপা পেপার বেরোলে তা সহজেই সকলের চোখে পড়ে।