
শেষ আপডেট: 29 August 2022 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীনেশ ত্রিবেদীর তৃণমূল ছাড়ার কথা মনে পড়ে? রাজ্যসভায় তৃণমূলের তৎকালীন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর সরাসরি অভিযোগ ছিল ডেরেক ও'ব্রায়েনের উদ্দেশে। ডেরেক তখন রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা। এখনও তাই। দীনেশ অভিযোগ করেন, রাজ্যসভায় তাঁকে বলার সুযোগই দিতেন না ডেরেক। সোমবার সেই একই ধরনের অভিযোগ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার (TMC MP Jahar Sarkar)।
এদিন এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জহর বলেছেন, তৃণমূলের ভিতরের রাজনীতি নিয়ে আমার বিশেষ জানা নেই। তা ছাড়া আমাকে দলে নেওয়াও হয়েছিল বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। তবে আমাকে চেপে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কে বা কারা তাঁকে চেপে দিচ্ছেন? রাজ্যসভায় কি তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?
তৃণমূল সূত্রে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। নতুন সাংসদ হিসাবে রাজ্যসভায় জহর সরকারকে যত মিনিট বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা অন্য কেউ পাননি। বরং বলা যেতে পারে সবচেয়ে বেশি সুযোগ ওঁকেই দেওয়া হয়েছে।
এখানে বলে রাখা ভাল যে, রাজ্যসভা বা লোকসভায় কোনও বিতর্ক হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাঁদের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে নির্দিষ্ট মিনিট বলার সুযোগ পান। ধরা যাক সাধারণ বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে ১০ ঘণ্টা। সেক্ষেত্রে বড় বিরোধী দল হিসাবে কংগ্রেস বেশি সময় বলার সুযোগ পাবে। তার পর সুযোগ পাবে ডিএমকে ও তৃণমূল। এখন ধরা যাক তৃণমূল মোট ৫৫ মিনিট বলার সুযোগ পাবে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল দলের দু’জন সাংসদকে ওই ৫৫ মিনিট ভাগ করে দিতে পারে। তৃণমূলের দাবি, জহর সরকার কত মিনিট বলার সুযোগ পেয়েছেন তা হিসাব করে রাখা রয়েছে।
জহরবাবু তৃণমূলের একাংশের দুর্নীতি নিয়ে সোমবার যেভাবে মুখ খুলেছেন, তাতেও দলের মধ্যে পাল্টা প্রশ্ন উঠছে। দলের এক সাংসদের কথায়, এঁরা অরাজনৈতিক লোক, সুবিধাবাদীও বলা যেতে পারে। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূলে সামিল হওয়ার সাত বছর আগে চিটফান্ড দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও এক মন্ত্রী জেলে গেছিলেন। নারদ কাণ্ডে দুই মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছিল। সে সব দেখেই তো তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রের আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) জহর সরকারকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেছিলেন। এ ব্যাপারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আগ্রহ ছিল না।
গা শিরশির করছে, পচা অংশ বাদ দিতে হবে: বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার