
শেষ আপডেট: 10 March 2023 14:07
শুক্রবার সাত ঘণ্টা জেরার পরে ইডি গ্রেফতার করেছে হুগলি (Hooghly) জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা বলাগড়ের তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Shantanu Banerjee)। ঠিক তারপরেই দ্য ওয়ালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অতীত ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Bapari)।
দলিত সাহত্য অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মনোরঞ্জনকে একুশের ভোটে বলাগড়ে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে যে বিধানসভায় বিজেপির লিড ছিল বিরাট পরিমাণ সেখানে মনোরঞ্জন জিতেছিলেন অনায়াসে। কিন্তু ভোটে জেতার পর থেকই দেখা যায় বলাগড়ের স্থানীয় কিছু নেতার কাজকর্ম নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যাপারী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শান্তনু।
এদিন মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেন, ‘আমি জিরাট কলেজ থেকে এই শান্তনুরই ছবি সরিয়ে দিয়েছিলাম। সেই সময়ে অনেকে আমায় খারাপ ভেবেছিল। আজ হয়তো সবাই বুঝবে!’
কেন সরিয়েছিলেন শান্তনুর ছবি?
ব্যাপারী বলেন, “কলেজের ভিতর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকতে পারে। কিন্তু ওঁর কেন ছবি থাকবে? আমি সেটারই প্রতিবাদ করে সব ছবি-টবি খুলিয়ে দিয়েছিলাম”।
বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক এও অভিযোগ করেন, একুশের ভোটের সময়ে শান্তনু তাঁকে কোনও সহযোগিতা করেননি। তৃণমূলের অনেকেই বলাবলি করেন, শান্তনু নাকি মনোরঞ্জনকে হারানোরও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। শোনা যায়, শান্তনুর সুপ্ত বাসনা ছিল বিধানসভায় টিকিট পাওয়ার।
মনোরঞ্জনবাবু এমনিতে কাঠ কাঠ কথা বলেন। যা বলেন পষ্টাপষ্টি। কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় নেই। এদিন সেই তিনি পরিষ্কার বলেন, “আমার কোনও দিনই ওঁকে পোষাত না। আর আমি ওঁদের মতো লোককে তোয়াজ করে চলার লোক নই। আমাকেও ওঁর পোষাত না। কিন্তু আমি কী করব!”
যুব তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবেই জেলাজুড়ে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল শান্তনুর। এদিন সেই শান্তনু গ্রেফতার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, পঞ্চায়েতের আগে কি তৃণমূলের জন্য এটা ধাক্কার? মনোরঞ্জন ব্যাপারী অবশ্য তা মানতে চানননি। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, গত পৌনে দু’বছরে শান্তনুদের সঙ্গে যেভাবে লড়াই করে চলতে হয়েছে মনোরঞ্জন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের, তাতে আজকে তাঁদের শিবির আনন্দ করবে। তবে এও ঠিক পঞ্চায়েতও এবার জিতে দেখাতে হবে তাঁদের।
বাম ও তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজ্যের দুই বিশ্ববিদ্যালয়! বচসা, হাতাহাতিতে জখম অনেকে