
শেষ আপডেট: 20 June 2018 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটের পর কাল বৃহস্পতিবার তৃণমূলের প্রথম কোর কমিটির বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার চব্বিশ ঘণ্টা আগে দলের মধ্যে বোমা ফাটালেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বললেন, তোলাবাজ, গরু পাচারকারী ও হার্মাদে ভরে গিয়েছে যুব তৃণমূল। দলের মধ্যে তারা অশান্তি পাকাচ্ছে। এবং তাদের জন্যই বদনাম হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এখানেই থামেননি রবিবাবু। তাঁর বক্তব্য, যুব তৃণমূলে এমনও অনেক নেতা রয়েছেন যাঁদের কারও বয়স ষাট তো কারও পঁয়ষট্টি। শিং ভেঙে তাঁরা বাছুরের দলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তৃণমূলে যুব বনাম ‘মাদার’ (এই নামেই দলে পরিচিত) অর্থাৎসদ মূল সংগঠনের লড়াই কেবল আর উত্তরবঙ্গে থেমে নেই। তা যেমন রয়েছে দুই চব্বিশ পরগণা, হুগলি, বর্ধমানের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলায় তেমনই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে।
বুধবার দিনহাটায় তৃণমূলের এক কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সেখানে ছিল না। তবে বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ তুলে রাখেন উৎসাহী কর্মীরাই। ওই ভিডিওতেই দেখা গিয়েছে, যুব তৃণমূলের মুণ্ডপাত করছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। বস্তুত রবীন্দ্রনাথবাবুর সঙ্গে স্থানীয় যুব তৃণমূলের আকচাআকচি অনেক দিন ধরেই চলছে। দু’দিন আগে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র নাটাবাড়ির দেওয়ানহাটে স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতা নিশীথ প্রামাণিকের সম্বর্ধনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভার আয়োজন নিয়েও চটেছিলেন রবিবাবু। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি চোটপাট শুরু করলে তাঁর গাড়ি ধরে যুব তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে দিনহাটায় নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলকে বেকায়দায় ফেলার অভিযোগ রয়েছে নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। এ দিন সে প্রসঙ্গ তুলেই মন্ত্রী বলেন, “সামনেই লোকসভা নির্বাচন। ক্ষমতা থাকলে নির্দল প্রার্থী দিয়ে ভোটে দাঁড়াক যুবরা। জমানত জব্দ করে দেব।” রবিবাবুর বক্তব্য, তৃণমূলে তথাকথিত যে যুবরা এসে গন্ডগোল পাকাচ্ছে তারা সব সিপিএম-ফরওয়ার্ড ব্লকের হার্মাদ। আগে তাদের দলে নেওয়া হত না। এখন তারা বেনো জলের মতোই ঢুকে পড়েছে। পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে দলের।
প্রসঙ্গত, যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও রবিবাবুর সম্পর্ক বিশেষ মধুর নয়। সূত্রের খবর, এক বার তাঁকে বাড়িতে ডেকে সতর্কও করেছিলেন অভিষেক। চোখে অস্ত্রোপচারের পর অভিষেক অবশ্য এখন ক'দিনের জন্য বিশ্রামে রয়েছেন। কাল কোর কমিটির সভাতেও তিনি উপস্থিত না থাকার কথা। এখন দেখা যাক, রবিবাবুর মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলনেত্রী কিছু বলেন কিনা।
উত্তরবঙ্গে কিন্তু রবিবাবুর এই ফুটেজ প্রায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যেমন হয়েছিল পঞ্চায়েত ভোটের দিন। সে দিন বিজেপি-র এক পোলিং এজেন্টকে বুথের মধ্যেই সপাটে চড় মেরেছিলেন এই প্রবীণ মন্ত্রী।
https://www.youtube.com/watch?v=yGB2_LT5HJw