দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবাংলার রাজবংশী ভোটের প্রায় পুরোটাই টেনে নিয়েছে বিজেপি। কোচবিহার লোকসভা তো বটেই। যে যে এলাকায় রাজবংশীদের আধিক্য রয়েছে সেখানকার ফলাফল দেখলেই তা স্পষ্ট। দরজায় কড়া নাড়ছে একুশের ভোট। এবার রাজবংশী ভোট ফিরে পেতে কৌশল শুরু করে দিল বাংলার শাসকদল। সূত্রের খবর, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যসোসিয়েশনের অনন্ত মহারাজ গোষ্ঠীকে কাছে পেতে দৌত্য চালাচ্ছে শাসকদল।
কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন চলছে, গতকাল শনিবার কলকাতায় এসে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে নাকি গোপনে বৈঠক সেরেছেন অনন্ত মহারাজের বিশ্বস্ত নেতা পরেশ বর্মন। সূত্র মারফৎ এও জানা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে নাকি তৃণমূলের নেতারা রাজ্যের এক বড় পুলিশকর্তার সঙ্গে পরেশের কথা বলিয়েছেন। ভরসা দেওয়া হয়েছে, বাংলায় এলে পুলিশ ‘ডিস্টার্ব’ করবে না অনন্ত মহারাজকে। তবে শাসকদলের কোনও স্তর থেকেই এই বৈঠকের ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জানা যাচ্ছে, এখন অনন্ত মহারাজ রয়েছেন অসমের ধুবড়িতে। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতার গোপন বৈঠকের খবর কানে গিয়েছে অসম বিজেপির-ও। তাই হিমন্ত বিশ্বশর্মারাও এখন মহারাজের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছেন।
গ্রেটার কোচবিহারের এখন দুটি গোষ্ঠী। একটির মাথায় বংশীবদন বর্মন এবং তাঁদের বিপরীতে অনন্ত মহারাজ। বংশী গোষ্ঠী অনেকদিন ধরেই তৃণমূলের গা ঘেঁষে রয়েছেন। বংশীবদন বর্মনকে সরকারি পদও দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। তবে অনন্ত মহারাজ তৃণমূলের দিকে এলে বংশীবদনদের কী অবস্থান হবে তা নিয়েও লাখ টাকার প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এমনিতে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক গলায় গলায়। গত লকসভা নির্বাচনে আগে আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী জন বার্লার সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রচারে এসেছিলেন। সেই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজকে। এমনকি মহারাজ বলে তাঁকে সম্বোধনও করেছিলেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল হলুদ পতাকায় মুড়ে দিয়েছিল অনন্ত মহারাজ গোষ্ঠী।
তবে রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, অনন্ত মহারাজকে কাছে পেলেও তৃণমূলের কতটা সুবিধা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন বাংলার বাইরে থাকার ফলে রাজবংশী ভোটে তেমন প্রভাব আর নেই অনন্ত মহারাজ গোষ্ঠীর। অন্যদিকে বিজেপি এই রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলেছে। ছড়িয়ে থাকা ভোট সংগঠিত করেছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি ইতিমধ্যেই নিশীথ প্রামাণিককে সামনে রেখে রাজবংশী ভোটকে নিজেদের দিকে রাখার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে। কারণ মনে রাখতে হবে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ রাজবংশী সমাজেরই প্রতিনিধি। পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণী সেনা রেজিমেন্ট তৈরির আশ্বাস দিয়ে রাজবংশীদের অনেকটাই নিজেদের কাছে টেনে ফেলেছে বিজেপি । তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি বদল করতেই অনন্ত মহারাজকে ধরার চেষ্টায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে তৃণমূল। তবে অসম ছেড়ে বাংলায় তিনি আসবেন কি না সেটা বড় প্রশ্ন।